বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর অবশেষে সেই ঘটনা নিয়ে সরব ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের‘আসল’ তৃণমূল। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন এলাকার সাংসদ সায়নী ঘোষ ছাড়াও কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শিউলি সাহা। যদিও এলাকার ঢোকার পরই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। এমনকি ‘মুখ্যমন্ত্রী পাঠিয়েছেন’ বলার পরই উড়ে আসে ‘বেইমান-গদ্দার’ কটাক্ষ।
মঙ্গলবার এলাকায় ঢোকা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়। শেষমেশ এলাকার সাংসদ হিসেবে শুধুমাত্র সায়নীকেই প্রবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ। পুলিশ প্রথমে তাঁদের বাধা দিলেও পরে ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়। নেতানেত্রীরা সবাই বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। সায়নী নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। বেরনোর সময় তাঁকে ‘বেইমান’, ‘গদ্দার’ কটাক্ষ শুনতে হয়। কটাক্ষ উড়ে আসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেও।
নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে কাকলি ঘোষদস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পাঠিয়েছেন। এমন নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি দিতে তৎপর প্রশাসন। তিনি জানান, ‘‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমারই মেয়ের সঙ্গে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। এর কড়া নিন্দা এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তি চাই। আমরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। সবরকমভাবে পাশে থাকব বলে আশ্বস্ত করেছি তাঁদের।”এই সময়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন তাঁরা।সায়নী ঘোষের বক্তব্য, ‘‘সকলের সর্বোচ্চ সাজা চাই, কোনও ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে সেই ঘটনায় সরকারের অ্যাকশন কী হবে, সেটা দেখা প্রয়োজন।”এরপরই ফের তাঁদের উদ্দেশ্য করে উড়ে আসে ‘বেইমান-গদ্দার’ কটাক্ষ।
তবে ওই বাড়ি থেকে বেরনোর সময় কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় ঋতব্রতকে। পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি বেরিয়ে যান। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন তাঁকে ‘বেইমান’, ‘গদ্দার’ বলে নানা অভিযোগ তোলেন। এমনকী আরও নানা কুমন্তব্য উড়ে আসে। ঘটনাস্থলে প্রবল অশান্ত পরিবেশের মাঝে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ঋতব্রত তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। ঋতব্রতদের থেকে আলাদা হয়ে যান সায়নীরা।
উল্লেখ্য, সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের তরফে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডলরা বারুইপুর গিয়ে মৃত বালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।মঙ্গলবার সকালে সেখানে যান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, “দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এমনকী যদিও দেখা যায়, পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে সেক্ষেত্রে কাউকে রেহাই নয়। মুখ্যমন্ত্রী তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।”
রবিবার ভোরে বারুইপুরের সূর্যপুরে বছর এগারোর নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অ্যাকশনে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রশাসনের এহেন কড়া পদক্ষেপে নির্যাতিতার পরিবার আশ্বস্ত হলেও এনিয়ে রাজনীতি থামছে না। দফায় দফায় সেখানে যাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এদিকে, আজই বারুইপুর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, বারুইপুর এসপি অফিসে গিয়ে তদন্তের গতিপ্রকৃতির খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি নিহত নাবালিকার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলবেন। ঘটনার দিনই অবশ্য তিনি ফোনে কথা বলে দ্রুত সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।




