Header AD

মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে মর্মান্তিক নৌকাডুবিতে শিশুসহ মৃত ৯, নিখোঁজ বেশ কয়েকজন

jabalpur boat accident

একটি লাইফজ্যাকেটের ভেতরে চার বছরের শিশুকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন মা। বুকের সঙ্গে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন তাকে। নৌকাডুবির (Jabalpur Boat accident) শেষ মুহূর্তেও সন্তানের সুরক্ষাই ছিল তাঁর একমাত্র চিন্তা। পরে উদ্ধারকারীরা যখন দেহ দুটি খুঁজে পান, দেখা যায় লাইফজ্যাকেটের মধ্যে ঠিক যেমনভাবে শিশুকে আগলে রেখেছিলেন, সেই অবস্থাতেই রয়ে গেছে তারা। মায়ের হাতের বাঁধন একটুও ঢিলে হয়নি। এই দৃশ্য দেখে চোখে জল এসে গিয়েছে উদ্ধারকারীদেরও। শুক্রবার সকালে উদ্ধার হয় মা ও সন্তানের নিথর দেহ।

বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের জবলপুর জেলার বার্গি বাঁধে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত নয়জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওই মহিলা ও তাঁর চার বছরের সন্তান। এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে, এবং তাঁদের খোঁজে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র লোধী এবং বিজেপি বিধায়ক আশিস দুবে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ পর্যটককেই উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, জবলপুরের এই বাঁধটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাঁধের বিস্তীর্ণ জলাশয়ে নৌকাবিহারের ব্যবস্থা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি নৌকায় মোট ২৯ জন পর্যটক উঠেছিলেন। নৌকাটি নর্মদা নদী-র মাঝামাঝি পৌঁছতেই আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জল উত্তাল হয়ে ওঠে, ঢেউয়ের দাপটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তীব্র হাওয়ার কারণে অনেকেই তীর থেকে চালককে সতর্ক করেছিলেন। কিছুক্ষণ ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করার পর নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে জলের তলায় তলিয়ে যায়। তীর থেকে অসহায় চোখে সেই দৃশ্য দেখছিলেন অন্য পর্যটকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা দড়ির সাহায্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন, যাঁদের শরীরে লাইফজ্যাকেট ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় নৌকাটি উলটে জলের নীচে চলে যাওয়ায় বহু যাত্রী আটকে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, সকল যাত্রীকে লাইফজ্যাকেট দেওয়া হয়নি—শুধু কয়েকজনই তা পেয়েছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী-সহ একাধিক দল। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার পরপরই চারজনের দেহ উদ্ধার হয়। সারারাত তল্লাশি চালিয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট নয়জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়েরা বলছেন যে দৃশ্য তাঁদের নাড়িয়ে দিয়েছে তা হল, সন্তানকে বুকে আগলে রাখা অবস্থাতেই মহিলার উদ্ধার হওয়া দেহ। যা দেখে চোখের জল সামলাতে পারেননি রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীও।