নতুন মাসের শুরুতেই আবার ধাক্কা। ফের বাড়ল অটোর এলপিজির দাম। বাণিজ্যিক গ্যাসের (Commercial Gas Cylinder) দাম বৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বাড়ল অটোর এলপিজির (Auto LPG) দামও। এক ধাক্কায় ৬ টাকা ৪৪ পয়সা বেড়ে গিয়ে বর্তমানে অটো এলপিজির নতুন দাম দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা।ফলে নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে অটোচালক—সবাই পড়তে চলেছেন বাড়তি খরচের চাপে।
অটো এলপিজির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে। যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East Crisis) আগে যেখানে অটোর এলপিজির দাম ছিল লিটার প্রতি ৫২ টাকা, সেখানে গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বদলাতে শুরু করে চিত্রটা। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সঙ্কট তৈরি হওয়ায় তার ঢেউ এসে লাগে ভারতেও। অটোর গ্যাস হোক বা রান্নার এলপিজি—সব ক্ষেত্রেই জোগান ও দামের চাপ স্পষ্ট। ১১ মার্চ প্রথম ধাক্কা—৫ টাকা বেড়ে অটোর এলপিজির দাম পৌঁছয় ৬২ টাকা ৬৮ পয়সায়। তারপর ৩১ মার্চ আবার বৃদ্ধি, এক লাফে ৭ টাকা ৩২ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকা। ১ এপ্রিল আরও বড় আঘাত—১২ টাকা ২৮ পয়সা বেড়ে দাম চড়ে যায় অনেকটাই। তারপরও থামেনি ঊর্ধ্বগতি। এক মাসের মাথায় আবার ৬ টাকা ৪৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে অটোর এলপিজির দাম দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা। ক্রমাগত এই মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে অটোচালক থেকে নিত্যযাত্রী—মধ্যবিত্তের কাঁধে বাড়ছে উদ্বেগ আর খরচ, দুটোই।
ভোট শেষ, আর তার পরেই কি ফের বাড়তে চলেছে অটোর ভাড়া? শহর ও শহরতলির বহু রুটে ইতিমধ্যেই ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু যেসব রুটের ভাড়া এতদিন ‘অপরিবর্তিত’ ছিল, সেখানেও এবার বাড়তে পারে ভাড়া—এমনই ইঙ্গিত মিলছে পরিবহণ মহল থেকে। জ্বালানির দাম, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অটোচালকদের একাংশ বলছেন, পুরনো ভাড়ায় আর টিকে থাকা সম্ভব নয়। ফলে বাকি রুটগুলিতেও ভাড়া বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চাপে। নিত্যদিনের যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচ মানে সংসারের বাজেটে নতুন চাপ। ভোটের পরেই এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অসন্তোষ বাড়ছে। বেহালা-রাসবিহারী রুটের এক অটোচালকের বক্তব্য, “এই রুটে গতমাসেই ২৫ টাকা থেকে ভাড়া বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। এমাসে কি আবার ভাড়া বাড়ানো যাবে? আমাদের পকেট থেকেই যাবে।”




