“হলদিয়া থেকে কে টাকা খায় জানা আছে। হলদিয়া থেকে টাকা কোথায় যায় সব আমি জানি। অর্দ্ধেক টাকা নিজে খায়, বাদবাকিটা বাংলার বাইরের নেতাকে পাঠায়। কত টাকা হলদিয়া থেকে যায় তার তদন্ত হোক।” মঙ্গলবার হলদিয়ার সুতাহাটা সুবর্ণ জয়ন্তী মাঠে নির্বাচনী জনসভা থেকে গদ্দার’ শুভেন্দু অধিকারীকে (Shubhendu Adhikari)নজিরবিহীন আক্রমণ শানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে ভোট লুঠের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এমনি জিততে পারবে না। নন্দীগ্রামের মানুষ তোমাদের আগের বার ভোট দেয়নি। এখনও কোর্টে মামলা বিচারাধীন আছে। মনে রেখো, অনেক ভাঙা মেশিন আছে। আমি মুখে ঝামা ঘষে দিতে পারতাম। কিন্তু ভবানীপুর থেকে ভয়ী হওয়ার জন্য আমি আর প্রেশার দিইনি।”
এবারও লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে এদিনের সভা থেকে মমতা বলেন, “এবারও লোডশেডিং করে দেবে, ছাপ্পা ভোট করে দেবে। নন্দীগ্রামেই ৪০ জনকে নোটিস পাঠিয়েছে এনআইএ। কেন বাবা? এই ছ’বছর কি তুমি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোচ্ছিলে! আজ বলছ, এক হাজার তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আগে বিজেপি-কে গ্রেপ্তার করুন। যারা খুন করেছে, ডাকাতি করেছে, নিজের সিকিউরিটিকে হত্যা করেছে।” সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন মমতা বলেন, “সুতাহাটা আমাদের আগেও বিধায়ক দিয়েছে। কিন্তু এখন দুর্ভাগ্য, একটা পার্টি এই মেদিনীপুর জেলায় নিজেদের লোকেদের সব ডেপুট করেছে। তারা সব এক পক্ষ হয়ে কাজ করছে। বিজেপি পক্ষ হয়ে কাজ করছে। এই জেলায় গদ্দার লিস্ট করে দিয়েছে, কাকে কাকে অ্যারেস্ট করতে হবে। আরে ভোটের পরে তুমি নিজেকে সামলাও। অনেক কেলেঙ্কারি করেছো। হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়? সেই ট্রাকের কাটমানি কে খায়? যত কোম্পানি আছে, তাদের থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সব একজনই তোলে। সেই টাকা অর্ধেক নিজে নেয়। বাদ বাকিটা দেয় বাইরের নেতাকে। আমি সবটাই জানি।”
এরপরই ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে আমার কর্মীও খুন করেছে।” এর পরে তিনি আরও বলেন, “আমি এদের আজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে চিনি। আগে কংগ্রেস করত। তার আগে তিন-চার বার করে হেরেছে। আমি অনেক দিয়েছি এই পরিবারকে। আর পারব না দিতে। এখনও বিজেপির সাহায্যে দুধে ভাতে আছে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করে রেখেছে। কত টাকা ঠিক নেই। সব চেয়ে বড় গদ্দার, দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচারী, অত্যাচারী, ভোটকাটারি এই বিজেপি সরকার।”
সভা থেকে পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “পুলিশকে আমি কোনওদিন দেখিনি যে তারা বিজেপির পক্ষ হয়ে কাজ করে। এক পক্ষ হয়ে কাজ করছে। আমাদের সব অফিসারকে বদলে দিয়েছে। নিজের লোক নিয়ে এসেছে।
এরপর দলীয় কর্মীদের তিনি সতর্ক করে দেন। বলেন, রাতের বেলায় জেতার পরেও লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করেছ। কাউন্টিং লুট করেছ। যাদের বসিয়েছিলে, তাদের আমি চিনি। এবার লোডশেডিং করে দিতে পারে। ছাপ্পা দেবে। কেউ যদি আপনাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে, তাদের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ছবি তুলে রাখবেন।”
মমতা বলেন, “আমি তো গাড়িতে লাল আলো, নীল আলো লাগাই না। পোঁ পোঁ বাজাই না। কারণ, আমি সাধারণ মানুষের মতো থাকতে চাই। তোমাদের এত অহঙ্কার, এক ভাই সাংসদ। তুমি বিধায়ক। আর এক ভাই বিধায়ক। পুরো পরিবারটাকে ঢেলে দিয়েছ। আমাদের পরিবারের এমএলএ ইলেকশনে আমি ছাড়া কেউ দাঁড়ায়নি। অভিষেককে রোজ গালাগালি দেয়। অভিষেককে লড়তে পারো না, আর আমাকে লড়বে! আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে অভিষেকই কাজ করবে। আমি বলে গেলাম। আমি তো থাকবই।”
সবশেষে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, “গদ্দারের হাত থেকে যদি বাঁচতে চান, তাহলে ভোটটা তৃণমূলকে দেবেন”।





