রাজ্যে প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ (Election In Bengal) আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে শহর ও রাজ্যের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে আরও কিছুটা প্রভাব পড়তে চলেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাচল ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যায়ক্রমে বেসরকারি বাস নেওয়া হচ্ছিল প্রশাসনের তরফে। তবে মঙ্গলবার থেকে সেই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়িত হল।
নির্বাচন কমিশনের (ECI) সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রথম দফার ভোটের পাশাপাশি দ্বিতীয় দফা এবং গণনাপর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিপুল সংখ্যক বাসের প্রয়োজন পড়ছে। সেই প্রয়োজন মেটাতেই মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের অধিকাংশ বেসরকারি বাসকে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু রুটে বাসের সংখ্যা কমে গিয়েছে। এর জেরে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকেই শহর কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র বেসরকারি বাসের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। বাস মালিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর যাতায়াত এবং ভোটকর্মীদের নির্দিষ্ট বুথে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় এক মাস আগে থেকেই বাসের চাহিদা জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে সেই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ ধাপে পৌঁছল। ফলে সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টপেজে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
তবে ভোগান্তি শুধু প্রথম দফার ভোটেই থেমে থাকছে না। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য ২৬ এপ্রিল থেকেই নির্দিষ্ট বাসগুলিকে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এক দফার চাপ কাটার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে পরবর্তী দফার প্রস্তুতি। এর জেরে টানা কয়েক সপ্তাহ রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামী ৪ মে রাজ্যের ভোটগণনা বা ফল প্রকাশের দিন নির্ধারিত রয়েছে। বাস সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে, গণনাপর্ব শেষ করে এবং ভোটকর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার পর বাসগুলি আবার নিয়মিত পরিষেবায় ফিরতে ফিরতে অন্তত ৬ মে পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। অর্থাৎ, আগামী প্রায় দুই সপ্তাহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে এই অস্থির পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি বাস পরিষেবা চালু থাকলেও, বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষত অফিসযাত্রী এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টা বেশ চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে। ট্রেনের ওপর যাত্রীচাপ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও শহরতলি ও দূরবর্তী এলাকার বহু মানুষের প্রধান নির্ভরতা বেসরকারি বাসই। তবে ভোটকে ঘিরে এই ব্যস্ততার মধ্যে তাঁদের জন্য কোনও বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থার কথা এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। সব মিলিয়ে প্রচারের উত্তেজনা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে গণপরিবহণের সংকটে পড়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যে বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।




