Header AD

‘ক্ষমতা থাকলে একমাসের মধ্যে মণিপুরে সভা করুন! লালগড়ে সরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা অভিষেকের

ab lalgarh

রবিবার ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Prime Minister Narendra Modi)ঝালমুড়ি খান। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। তার জবাবে মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামে সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এদিনের সভা থেকে আদিবাসীদের অধিকার ও ন্যায্য পাওনা নিয়ে সরব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঝাড়গ্রামের লালগড় তথা জঙ্গলমহল এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Home Minister Amit shah) কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনি আজকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং-এ সভা করেছেন, আপনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনি যদি সত্যি দক্ষ মন্ত্রী হন বা দক্ষ নেতা হন তাহলে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং-এ যেভাবে সভা করছেন এক মাসের মধ্যে সেই ভাবে মনিপুরের সভা করে দেখান। কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতায় আপনার রাজ্য সরকার ক্ষমতায় মণিপুরে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি আপনারা পারবে না।”

লালগড় সজীব সংঘ মাঠে এদিনের দ্বিতীয় জনসভা করেন অভিষেক।এদিনে সভা থেকে অভিষেক সারা ভারতবর্ষে আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “সবথেকে বেশি আদিবাসীদের উপর অত্যাচার যদি কোন রাজ্যের হয়ে থাকে এই রাজ্যের নাম হল মনিপুর। তারপরে যদি কোথাও হয়ে থাকে তা হল মধ্যপ্রদেশ। এবং তারপর উত্তর প্রদেশ। সব থেকে বেশি আদিবাসীরা অত্যাচারিত হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে। যখন রাম মন্দির করেছিল একজন জনজাতি আদিবাসী মূলবাসী রাষ্ট্রপতিকে এরা ঢুকতে দেয়নি রাম মন্দিরের উদ্বোধনে। বনগাঁ, রানাঘাট থেকে মতুয়া, গোঁসাই, পাগলরা কাঁধে করে জল নিয়ে গেছিল পুজো করতে। এদের দুর্ব্যবহার করে বার করে দিয়েছে ঢুকতে দেয়নি রাম মন্দিরারা। এরা রামের রাজনীতি করে।” এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, আমরা কর্মের রাজনীতি করি। বিজেপি ধর্মের রাজনীতি করি।”

ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীকে নিশানা করে সভা থেকে অভিষেক বলেন, “কালকে শুনেছেন তো তার কেচ্ছা কাণ্ড। নতুন করে বলার কিছু নেই, নির্বাচনের আগে এক কোটি টাকা নিয়ে ধরা পড়েছিল। আর কালকে যে ভয়েস ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে এই ভয়েস ক্লিপের বিরুদ্ধে এফআইআর ও হবে। তার গলার সাথে অডিও স্যাম্পেল টেস্ট করানো হবে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহিলাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, যারা মহিলাদের বস্তুর মতো ব্যবহার করে নিজেদের লালসা, ইচ্ছা পূরণ করার জন্য, তাদেরকে আর যাই হোক এই লালগড় ঝাড়গ্রামের মাটি কোন‌ওদিন ক্ষমা করবে না।”

ঝাড়গ্রামের জনসভা থেকে বিজেপিকে একহাত নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কুর্মী এবং আদিবাসীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে বিজেপি। তিনি বলেন, “তারা এসে বলে গেছেন, কুর্মী ভাইদের বিজেপি ক্ষমতায় এলে এসটি স্ট্যাটাস বা স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই উড়িষ্যায় সরকার কাদের? ২০২৪-২০২৬ – দু বছর আপনাদের সরকার। ঝাড়খণ্ডে পাঁচ বছর ২০১৯-২৪ সরকার কার ছিল? ১৯-র আগে চোদ্দ থেকে উনিশ – কার সরকার ছিল? বিজেপির সরকার। আপনারা কেন সেখানকার কুর্মী ভাইয়েদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করতে পারেননি। ঝাড়খণ্ডে কুর্মীদের বা উড়িষ্যায় ওখানে কুর্মীদের কেন আদিবাসী স্ট্যাটাস দেওয়া হয়নি?বাংলায় এসে কুর্মী আর আদিবাসী ভাইয়েদের মধ্যে বিভাজন আর ধর্মে ধর্মে দাঙ্গা লাগানো হচ্ছে – বিজেপির কাজ। “

একমাত্র ট্রাইবাল মুখ্যমন্ত্রী হেমন সোরেনকে বিজেপির অপমান প্রসঙ্গে অভিষেক এদিন ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন , “গত পরশুদিন হেমন সোরেনের এই সভায় আসার কথা ছিল। দেশের প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলে একজন আদিবাসী জনজাতি মুখ্যমন্ত্রীকে এক ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করিয়েছে, তাকে হেলিকাপ্টারে ল্যান্ডিং এর অনুমতি দেয়নি। আমি ভাবলাম হয়তো প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্ধারিত জনসভা ছিল বা কর্মসূচি ছিল, সে কারণে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা পারমিশন দেয়নি বা অনুমতি দেয়নি। পরে পানিহাটির মিটিং শেষ করে যখন কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী, হেমন সোরেনকে এক ঘন্টা আটকে রেখে ঝাড়গ্রামে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন।”

বলাই যায় প্রচারের শেষ বেলায় ঝাড়গ্রামে বিরোধীদের নিশানা করে কার্যত ঝড় তুলে গেলেন অভিষেক।