“আমার অনেক ভুল আছে জানেন তো? আপনাদের এখানে যে প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাকে আমি দুধকলা দিয়ে পুষেছি। আমাকে অভিষেক মাঝে মাঝে বলে তুমি কঠোর হতে পারো না। তুমি এত দুর্বল হও কেন। ঠিক কথ বলে। আমার উচিত ছিল সেদিনই জেলে ভরে দেওয়া। কিন্তু আমি জেলে ভরিনি। সুযোগ দিয়েছিলাম। সুযোগের অপব্যবহার করেছে। পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডকে পলিউটেড করে দিয়েছে। আমি সব জানি। কোন পুলিশ চেঞ্জ হবে, কোন পুলিশ কোথায় যাবে, এখানে বসে সব কলকাঠি নাড়ছে। তোমার যে দিল্লিতে কত টাকা আছে, এখানে কত টাকা আছে, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কতা টাকা নিয়েছ, তার হিসাব কিন্তু আমার কাছে আছে। তুমি আমার কাছে টিকিট চেয়েছিলে, আমি দিইনি। কেন দেব? তোমাদের মতো চোর-ডাকাতকে দিই না।” জগদ্দলে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নাম না করে সেখানকার বিজেপি প্রার্থীকে এই ভাষাতেই চাঁচাছোলা আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, “শ্যামকে নাকি NIA দিয়ে গ্রেপ্তার করবে! আমি বলেছি তোমাকে জেলে পাঠালে তুমি দ্বিগুণ ভোটে জিতবে।” একই সঙ্গে ভবানীপুরে সেন্ট্রাল ফোর্স এনে ছাপ্পা মারার অভিযোগও তোলেন তিনি।
জগদ্দলের সভা থেকে ভবানীপুরে সেন্ট্রাল ফোর্স ব্যবহার করে ছাপ্পা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তিনি চড়া সুরে বলেন, “তিনটে ওয়ার্ড বেছে নিয়েছে আমার বিধানসভা এলাকায়। ৭৪, ৭৭, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড। সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে ছাপ্পা করাবে। এমন ধাপ্পা দেব না, বুঝবে ঠ্যালা। ধোঁকার ডালনা খাওয়াব। বিচুটি পাতার ঝোল খাওয়াব। তুমি আমাকে চেনো না। যেখানে তুমি গন্ডগোল করবে, আমি গিয়ে হাজির হব। তুমি আটকাও আমাকে! আমাকে তুমি ব্যান করবে? আমাকে ব্যান করলে সারা ভারত, সারা পৃথিবী দেখাবে!”
এদিন জগদ্দলের অন্নপূর্ণা কটন মিল গ্রাউন্ডের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেন। এছাড়াও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন এই অফিসারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “আমি একটি জায়গায়, আমার কনস্টিটিউয়েন্সিতে যাব, কলিন্স লেনে। যদি অন্য কোনও পার্টির মিটিং থাকত, আমি পারমিশন চাইতাম। তুমি আমাকে না দিলে ভাবতাম, অন্য কোনও পার্টির মিটিং আছে। আমি কিছু ভাবতাম না। কিন্তু কোনও পার্টির মিটিং ছিল না। এত বড় সাহস এক জন গদ্দারকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করে নিয়ে এসেছে। সে বলছে, পারমিশন দেব না। আমি বলছি নির্বাচনের পরে বিজেপি তোমাকে গভর্নর করে, না কি রাষ্ট্রপতি করে তা আমি দেখতে চাই। তুমি থাক তো বারুইপুরে। তোমাকে আমরাই বিডিও বানিয়েছিলাম। রিটার্নিং অফিসার হওয়ার যোগ্যতা নেই তোমার। তুমি আমাকে পারমিশন দিলে না ঠিক আছে। আমি মিটিং করব না। কিন্তু যে কোনও এরিয়ায় গিয়ে আমি তো চা খেতেই পারি। তুমি আমার চা খাওয়া বন্ধ করো তো, দেখি?”
সোমবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রচারে এসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসের স্লোগানকে স্বামী বিবেকানন্দের স্লোগান বলে বেফাঁস মন্তব্য করেন। সেই নিয়ে জগদ্দলের সভা থেকে নাম না করে যোগী আদিত্যনাথকে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, হরিদাস, ক্রীতদাসের দল ওরা না জানে বাংলার সংস্কৃতি, না জানে অর্থনীতি। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “তোমার বুকের পাটা যদি থাকত, তুমি বাজেটে বলতে মহিলাদের এত টাকা দেব। কই বাজেটে তো কিছু বললে না। একটা রাজ্যের জন্য তো হয় না। সারা ভারতবর্ষের জন্য করতে হয়। কাকে ছলনা করছ। আমি বলি যে যেখানেই ক্যান্ডিডেট থাক, আমি সরকার গড়ব। আমি বাংলার ভোটার। আপনারা আমাকে ভোট দেবেন।”




