শেষমেশ ইডির দফতরে হাজিরা দিলেন রাজ্যের বিদায়ী দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু( Sujit Bose)।বিধাননগর কেন্দ্রের TMC প্রার্থী সুজিত বসুকে ভোটের আগেই বারবার তলব করেছিল ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি সেই সময় হাজিরা এড়ান এবং আদালতে তা জানান। ভোটপর্ব শেষ হতেই কলকাতা হাইকোর্ট-এর নির্দেশ মেনে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স-এ ইডি দপ্তরে পৌঁছে যান তিনি। রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই হাজিরা কি শুধুই নিয়মরক্ষা, নাকি বড় কোনও তদন্তের ইঙ্গিত? এখন নজর ইডির পরবর্তী পদক্ষেপে।
তদন্তের পরিধি যে অনেকটাই বিস্তৃত, তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। এর আগে ইডি আধিকারিকরা হানা দেন সুজিতের বাড়ি ও অফিসে। শুধু তাই নয়, তাঁদের মালিকানাধীন একটি ধাবাতেও চলে তল্লাশি অভিযান। তদন্ত থেমে থাকেনি সেখানেই। সুজিতের পুত্র সমুদ্র এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। তাঁদের বয়ান ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, দক্ষিণ দমদম পৌরসভার(South Dumdum Municipality) নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েই শুক্রবার সুজিত বসুকে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি ওই ধাবার আর্থিক লেনদেন নিয়েও তদন্তকারীদের বিশেষ নজর রয়েছে বলে দাবি সূত্রের।
কলকাতা হাইকোর্ট-এর নির্দেশ ছিল, ১ মে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে। সেই মতোই সময় মেনে পুত্র সমুদ্র ও আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান রাজ্যের বিদায়ী দমকলমন্ত্রী। ইডি দপ্তরে ঢোকার মুখে তাঁকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়। তদন্তকারীরা তাঁর কাছে কোনও নির্দিষ্ট নথি চেয়েছেন কি না, সে প্রশ্নও ওঠে। উত্তরে তিনি বলেন, “না না, কিছু চাওয়া হয়নি।” তবে তাঁর সঙ্গে কিছু নথিপত্র ছিল তেমনটাই দেখতে পাওয়া যায়। সুজিত আরও জানান, সেগুলি আদালতের নির্দেশনামার প্রতিলিপি। তিনি বলেন, “কোর্টের যে অর্ডার আছে, সেটা নিয়ে এসেছি।”
ইডির বারবার তলবকে ঘিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন সুজিত। তাঁর দাবি ছিল, যে মামলায় তাঁকে ডাকা হচ্ছে, সেই মামলায় ইতিমধ্যেই সিবিআই চার্জশিট জমা দিয়েছে, অথচ সেখানে তাঁর নাম নেই। শুক্রবার সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, কেন তাঁকে বারবার নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, সে বিষয়ে অজ্ঞতার কথা জানান দমকলমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই নোটিশ পাঠানোর কারণ সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা নেই। গত কয়েক দিনে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার সুজিতকে তলব করেছে ইডি। তবে প্রতিবারই তিনি সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকার কথাও আদালতে জানান। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ১ মে তাঁকে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতেই হবে। আদালতের সেই নির্ধারিত সময় মেনেই এদিন ইডি দপ্তরে যান সুজিত।




