আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই মহাযুদ্ধের ফল ঘোষণার পালা। সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতে শুরু করবে। যুযুধান সব পক্ষই এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। তার আগে ২৯৪ কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টদের লাস্ট মিনিট সাজেশন দিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড শনিবার বিকেলে ভার্চুয়াল মিটিং করলেন। সেখানেই দলনেত্রীর প্রত্যয়ী ঘোষণা “২০০ র বেশি আসন পাব”। সূত্রের খবর, বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো এজেন্টদের বার্তা দিয়েছেন,কোনও কেন্দ্রের জয়ের ব্যবধান কম হলে এজেন্টদের পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। পাশাপাশি রাত দুটো বাজলেও কাউন্টিং সেন্টার ছাড়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী। সেই সঙ্গে, ভোটের সময় যে কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের পরে পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন দলনেত্রী।
এদিনের মিটিং-এ দলনেত্রীর বার্তা, “যারা ৬ মাস ধরে লড়াই করে পুলিশের এই ভূমিকার সামনেও কাজ করেছে তাদের ধন্যবাদ। আমি তাদের পুরস্কৃত করব। অনেক লড়াই করেছেন যুদ্ধ করেছেন। মনে রাখবেন আমরা জিতছি। ২০০ র বেশি আসন পাব। রাত ২ টো বাজলেও কাউন্টিং সেন্টার ছাড়বেন না। যতক্ষণ না আমি বলব। যে গুলো মার্জিনাল সিট সেগুলো রিকাউন্টিং করতে বলবেন। ২০০ – ৩০০ ভোটের ব্যবধানে যদি দেখেন ওদের জিতিয়ে দিচ্ছে , সেখানে রিকাউন্টিং করতে বলবেন।”
গণনা চলাকালীন দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর সতর্কবার্তা, “কাউন্টিং এজেন্টরা নিজেরা বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যাবেন। দুপুরের খাবার হালকা খাবেন । আগের দিন থেকে কেউ পান জর্দা বা অন্য কিছু খাবেন না। বাইরের খাবার নেবেন না। কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।”
ভোটগণনার সময় কাউন্টিং এজেন্টদের ফাঁকি দিয়ে কারচুপি হতে পারে। সেই আশঙ্কায় কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন মমতা। সূত্রের খবর, তিনি বলেন, “স্ট্রং রুম থেকে কাউন্টিং এর জন্য মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় মেশিন বদলাতে পারে। ভোর ৫ টার মধ্যে পৌঁছে সেন্টারে পৌঁছে যাবেন। নির্বাচনের পরদিন থেকেই বিজেপির নানা ন্যারেটিভ চলে। আগেও দেখেছি। এক্সিট পোল করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এটা বিগত ১০/১২ বছর ধরে চলছে। যে অত্যাচার কেন্দ্রীয় বাহিনী করেছে-মানুষের বাড়িতে গিয়ে মেরেছে। মহিলাদের শিশুদের মেরেছে। তৃণমুলের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা সব করেছে। পরশু দুপুর পর্যন্ত এটা হবে। কাউন্টিং এজেন্ট দের বলব কাউন্টিং এজেন্টরা শেষ পর্যন্ত থাকবেন। জাতীয় দলের এজেন্টদের সামনে বসতে দেবে এরকম কোনো নোটিফিকেশন নেই। ভোর বেলা গিয়ে সামনের সারিতে বসে পড়বেন।” একই সঙ্গে সন্দেহ বা গরমিল হলেই ভিভিপ্যাট কাউন্টিং এর দাবি জানানোর কথাও বলেন তিনি। দলীয় এজেন্টদের প্রতি তাঁর সতর্কবার্তা ,”এরা ইচ্ছে করে স্লো কাউন্টিং করতে পারে। আগেরবার আমাদের কর্মীদের জন্য বিষ্ণুপুরে ১০০০ ভোটে হেরেছি। কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য আলতু ফালতু কাউকে এজেন্ট করবেন না।”





