ভোটের ফল (Election Results 2026) ঘোষণার সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। অটোও ছিল খুবই কম সংখ্যায়। সন্ধ্যার পর কিছু রুটে অল্পসংখ্যক অটো চলাচল শুরু করলেও, অধিকাংশ রুটই প্রায় ফাঁকা ছিল। ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে। BJPর উত্থানের প্রভাব পড়েছে অটো ইউনিয়নগুলিতেও, অনেক সংগঠনই রাতারাতি নিজেদের অবস্থান বদলে নিয়েছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর আজ প্রথম সকালেই চিত্রটা খানিক বদলেছে। গতকালের তুলনায় রাস্তায় অটোর সংখ্যা বেড়েছে ঠিকই, তবে চোখে পড়ার মতো কিছু বদলের দেখা মিলছে। বেহালা, ঠাকুরপুকুর, তারাতলা, রাসবিহারী, কসবা থেকে রুবি প্রায় সব রুটেই অটোর উপরে গেরুয়া পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছে। উল্টোডাঙা, কাদাপাড়া, বাগবাজার, বারাকপুরেও একই দৃশ্য। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গেরুয়া নিশান নিয়েই অটো চলাচল করতে দেখা গেল।
মঙ্গলবার সকালে বালিগঞ্জের এক অটোস্ট্যান্ডে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র—অটোচালকেরা গাড়িতে বিজেপির পতাকা বাঁধছেন, গেরুয়া আবিরে মেতে উঠেছেন। ডিজের তালে তালে নাচগানেও যোগ দিয়েছেন তাঁরা। আইএনটিটিইউসি-র ইউনিয়ন ছেড়ে তবে রাতারাতি গেরুয়া শিবিরে যোগদান? সেই রুটের এক অটোচালকের কাছে এই প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি জানালেন, বিজেপি ইউনিয়ন গড়ার ডাকে আমরা এক হয়েছি। একজন অটোচালক সংগঠনের নেতা বলেন, প্রতিটা রুটে ধারণ ক্ষমতার বেশি অটো নামিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। রুট পারমিট হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হয়। দিনের পর দিন পুলিশের জরিমানা বাড়ছে। এই ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন সব চালকরা। তৃণমূলের অটো ইউনিয়নের সদস্য, বেহালার এক অটোচালকের কথায়, একচেটিয়া দাপুটে মনোভাবের ফল ভুগতে হল সরকারকে।
উল্লেখ্য, এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ায় শহরের রাস্তায় নিত্যযাত্রীরা ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ে গত দুই মাসে অটোর ভাড়াও দ্রুত বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি চোখে পড়েছে। এখন বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের প্রেক্ষিতে তিনচাকার মালিকরা নতুন করে স্বস্তি ও পরিবর্তনের আশা করছেন।





