ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে অশান্তির খবর। বিভিন্ন জায়গায় হামলা, ভাঙচুর—বিশেষ করে তৃণমূলের পার্টি অফিসগুলিকে ঘিরে অভিযোগ উঠছে। সেই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অশান্তির নানা ছবি ও ভিডিও, যার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অশান্তি প্রতিরোধে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়ে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে—কলকাতার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী পোস্ট করা হচ্ছে, সেদিকেও পুলিশের নজরদারি অত্যন্ত সক্রিয়। গুজব ছড়ালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পরই রাজ্যের একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ছড়ানোর খবর সামনে আসে। কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া এবং লালবাজারের পুলিশ প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বারবার জানানো হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার এই ধরণের ভুয়ো খবর রুখতে সক্রিয় ভূমিকা নিল কলকাতা পুলিশও। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর পোস্ট নিয়ে সতর্ক করল তারা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বহু ক্ষেত্রে অন্য রাজ্য বা এলাকার ছবি ও ভিডিও কলকাতার বলে চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই ধরনের কনটেন্টের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। একইসঙ্গে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অফিসিয়াল বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। নাগরিকদের কাছে আবেদন, কোনও খবর দেখলে তা যাচাই না করে যেন বিশ্বাস বা শেয়ার না করা হয়।
প্রসঙ্গত, সোমবার ভোটপর্ব মিটতেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় বদল ঘটেছে। ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে বাংলার ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নিজের গড় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে তাঁকে হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।





