Header AD
Trending

‘পদত্যাগ করব না, রাষ্ট্রপত শাসন হলে হোক, বরখাস্ত করলে করুক!’ তোপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

tmc meeting

ফলপ্রকাশের পর প্রথমবার দলীয় জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। সেখানেই তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ ‘নির্বাচনে লুট করেছে বিজেপি, ১০০ আসনে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে’। এই অভিযোগ নিয়ে দলের তরফে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তাঁর দাবি, ‘আমি হারিনি। আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন করলে করুক। রেকর্ড থাক। আমাকে বরখাস্ত করলে করুক। বরখাস্ত হলে কালো দিন হিসেবে রেকর্ড থাক।’এদিকে এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের নির্বাচিত বিধায়করা সকলে উপস্থিত না থাকায় সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর মমতা নিজের হারের ধাক্কা সামলে ইতিমধ্যেই দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এরই মাঝে দলের অন্দরে ফাটলের ইঙ্গিত মিলছে। মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতার ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন তৃণমূলের নবনির্বাচিত ১১ জন বিধায়ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর এই প্রথমবার দলের সমস্ত নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৬৯ জন। অর্থাৎ ১১ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এই বিধায়করা কি ইচ্ছাকৃত আসেননি ? নাকি তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন? আবার অনেকে মনে করছেন দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ থেকে তাঁরা হয়তো দূরত্ব বজায় রাখছেন! পরাজয়ের এই আবহে দলের সংহতি বজায় রাখাই এখন মমতার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

উল্লেখ্য এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বিধানসভায় ‘বিরোধী দলনেতা’ কে হবেন তা নির্ধারণ করা। যেহেতু মমতা নিজে পরাজিত হয়েছেন এবং এই মুহূর্তে বিধায়কও নন, তাই বিধানসভার অন্দরে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ মুখ খুঁজছে তৃণমূল। পাশাপাশি, বিজেপির নতুন সরকারের বিরুদ্ধে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তৃণমূল কী কৌশল নেবে, তা নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বহু কর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের একটি ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মমতা বৈঠকে বিধায়কদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, দল সবসময় তাঁদের পাশে আছে।

পাশাপাশি এদিন তিনি বলেন, “আমি,চন্দ্রিমা আবার আদালতে প্র‍্যাকট্রিস করব। নানা কেস যা হচ্ছে আমি, চন্দ্রিমা, বিপ্লব মিত্র,বিমান ব্যানার্জি সবাই আইনজীবী হিসাবে মামলা দেখব। আমাদের এখানে হারানো হলেও দিল্লি আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। গোটা INDIA টিম একসাথে লড়াই করব।” এরপরই বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে “তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে মেরেছে, ববি’কে মেরেছে।ওদের সাহস দেখুন জিয়াগঞ্জে লেনিন মূর্তি ভেঙে দিয়েছে।” শপথের দিন তৃণমূল পার্টি অফিসে রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজবে বলে জানিয়েছেন মমতা।