মুম্বইয়ে (Mystery Death in Mumbai) একই পরিবারের চার জনের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও গভীর হল। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছিল, তরমুজ খাওয়ার পর কোনও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের রিপোর্ট সেই সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে। মৃতদের শরীরে কোনও ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে গবেষণাগার। ফলে মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত ২৫ এপ্রিল আবদুল্লা দোকারিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসরিন এবং তাঁদের দুই কন্যা রাতের খাবারের পর তরমুজ খান। কিছুক্ষণের মধ্যেই চার জনের বমি শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যুর আগে আবদুল্লা পুলিশকে জানিয়েছিলেন, সেদিন বাড়িতে আত্মীয়রা এসেছিলেন এবং তাঁরাই তরমুজ নিয়ে এসেছিলেন।
ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তরমুজ খাওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়, অনেক জায়গায় বিক্রিও কমে যায়। তবে তদন্তে নতুন মোড় আসে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। সেখানে মৃতদের শরীরে ব্যথানাশক মরফিনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, শরীরের অভ্যন্তরীণ কিছু অঙ্গ সবুজাভ হয়ে গিয়েছিল— যা কোনও বিষাক্ত রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
এখন ফরেনসিকের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা। আপাতত বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই তদন্ত এগচ্ছে। ব্যাকটেরিয়ার তত্ত্ব খারিজ হওয়ায় দোকারিয়া পরিবারের চার মৃত্যুর রহস্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে।





