ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মে মাস ভরা গ্রীষ্ম হলেও দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। বৃষ্টির দাপটে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমনের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মৌসুমী বায়ু পৌঁছতে আর দু’সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই তীব্র গরমের প্রভাব শুরু হয়ে মে মাস জুড়েই তা বজায় থাকে। তবে এই বছর ঘন ঘন বৃষ্টির জেরে গরমের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিন তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরালা ও মাহে এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে বজ্রপাত-সহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও অব্যাহত রয়েছে। মে মাস জুড়ে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু নির্ধারিত সময় মেনেই এগোচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১ জুনের আশপাশেই কেরালা উপকূলে বর্ষার প্রবেশ ঘটতে পারে।
অন্যদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি মে মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ‘লং পিরিয়ড অ্যাভারেজ’ বা এলপিএ-র ১১০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে সাধারণত যতটা বৃষ্টি হয়, এ বার তার তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মে মাসে গড়ে ৬৪.১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর ভারত-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই এবার সেই গড় পরিমাণকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বৃষ্টিপাত।
যদিও বৃষ্টির বণ্টন সব জায়গায় সমান নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ এবং পূর্ব-মধ্য ভারতের কয়েকটি এলাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। এই আঞ্চলিক তারতম্য কৃষি পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সেইসব ফসলের ক্ষেত্রে, যা মরশুমের শুরুর দিকের বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।





