ফিরছে পুরনো ঠিকানা। রাজ্যের প্রশাসনিক হৃদস্পন্দন আবারও রাইটার্স বিল্ডিং (Writers Building) কেন্দ্রিক হতে চলেছে। BJPর নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মন্ত্রীদের দপ্তর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস ফের মহাকরণেই সরিয়ে আনা হবে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাইটার্স বিল্ডিং ঘিরে সাজসজ্জা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ। অন্যদিকে বদল দেখা যাচ্ছে নবান্ন চত্বরেও। নবান্নের (Nabanna) সামনে নিরাপত্তার কড়াকড়ি আগের তুলনায় কিছুটা শিথিল হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, আগামী দিনে ভিভিআইপি চলাচল কমলে উঠে যাবে দীর্ঘদিনের একাধিক বিধিনিষেধও। এই পরিবর্তনে সবচেয়ে স্বস্তিতে হাওড়ার শিবপুর এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, নবান্ন সচিবালয় হওয়ার পর থেকেই প্রায়শই রাস্তা বন্ধ থাকত। ভিভিআইপি যাতায়াতের জেরে নিত্যদিন সমস্যায় পড়তেন অফিসযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক কেন্দ্র সরে গেলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিরাপত্তার কড়াকড়ির জেরে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে হত শিবপুরবাসীকে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক এলাকায় ছাদে ওঠা থেকে শুরু করে রাস্তার ধারে গাড়ি রাখা, এমনকী রাতের পর যান চলাচলেও ছিল কড়া নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ। তাই প্রশাসনিক সদর দপ্তর সরিয়ে নেওয়ার খবরে এখন স্বস্তির হাওয়া শিবপুর জুড়ে। খুশি ব্যবসায়ী, টোটোচালক, দোকানদার থেকে গৃহবধূ— প্রায় সকলেই। স্থানীয়দের আশা, এবার ধাপে ধাপে সরবে নবান্ন ঘিরে থাকা ব্যারিকেড, স্বাভাবিক হবে যান চলাচল। বহুদিন পর আবার পুরনো ছন্দে ফিরবে শিবপুরের রাস্তাঘাট ও জনজীবন।
২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মহাকরণের সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সদর দপ্তর সরিয়ে এনেছিলেন নবান্ন-এ। সেই সময় এই পদক্ষেপকে অনেকেই দেখেছিলেন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে। এক যুগ পর যেন ইতিহাস আবার পূর্ণবৃত্তে ফিরছে। নবান্নের ব্যস্ত করিডর ছেড়ে নতুন গেরুয়া সরকারের সচিবালয় আবার ফিরে যাচ্ছে রাইটার্স বিল্ডিং-এর পুরনো অলিন্দে।





