সোমবার বেলা ১২টায় শুভেন্দুর নেতৃত্বে নব নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হল নবান্নে। পাশাপাশি প্রথম দিনেই তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে তাঁর। এছাড়া বিকেল ৪টেয় নবান্নেই বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে ছিলেন নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রী। এছাড়া ছিলেন বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা।রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের ক্যাবিনেট বৈঠকের পর প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ছয় বড় সরকারি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী ।
তিনি বলেন, “আমরা প্রথম ক্যাবিনেটের বৈঠক করেছি। মন্ত্রিসভায় আমার পাঁচজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থ ছিলেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে। দীর্ঘদিন বাদে ভয়মুক্ত, অবাধ নির্বাচন দেখল পৃথিবীর মানুষ। ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল, প্রার্থী সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।”
এদিনের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল:
প্রথম সিদ্ধান্ত: যাঁদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই ৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব।”
দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত: রাজ্যের সীমান্ত রক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।”
তৃতীয় সিদ্ধান্ত: ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হল রাজ্য।পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা, পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, উজ্জ্বলা যোজনা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যকে সক্রিয় ভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলাশাসকদের দ্রুত সমস্ত আবেদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
চতুর্থ সিদ্ধান্ত: রাজ্যের আইপিএস, আইএএসরা কেন্দ্রের কোনও ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারতেন না। এবার থেকে চাইলে তাঁরা পারবেন।শুভেন্দু জানান, প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
পঞ্চম সিদ্ধান্ত: রাজ্যে লাগু হল ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। এতদিন অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি লাগু ছিল বঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত অবৈধ ভাবে আগের আইপিসি, সিআরপিসি চলছিল। আজ থেকে বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ।
ষষ্ঠ সিদ্ধান্ত: ২০১৫ সালের পর থেকে রাজ্যে বন্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়া। বেকার যুবক-যুবতীদের কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হল।”
বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন পূর্বতন সরকারের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। তিনি জানান, আগে চালু থাকা সমস্ত প্রকল্প থাকবে। তবে অ-ভারতীয় বা মৃত কেউ এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানান তিনি।আগাামী সপ্তাহ থেকে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল সাংবাদিক বৈঠক করবেন।তবে এবার আরও অনেক কিছু পাবেন, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক। তিনি বলেন, “পরবর্তী সোমবার আমরা মন্ত্রিসভার আরও একটি বৈঠক করব। আরজি কর-সহ নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), এরিয়ারের বিষয়ে আমরা ওই দিন আলোচনা করব।”





