রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহেই এবার নৈহাটির বড়মার মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থাতেও আসতে চলেছে বড় বদল। রাজনৈতিক পালাবদলের ছোঁয়া লেগেছে মন্দিরেও। বহুদিনের পুরনো মন্দির কমিটির জায়গায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। সূত্রের খবর, আগামী ১৪ মে নৈহাটি বড় কালীপুজো সমিতি ট্রাস্টের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি মন্দির পরিচালনায় একাধিক নতুন সদস্যকে যুক্ত করার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও নিয়মশৃঙ্খলা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত মিলছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ।একই সঙ্গে এবার থেকে মন্দিরে আর সেলিব্রিটিররা আলাদা গুরুত্ব পাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “বড়মা মন্দির কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করবে। সেইমতো তাঁরা মিটিং ডেকেছে। এখানে কেউ কোনও প্রায়োরিটি পাবে না। সেলিব্রিটি হোক বা যে-ই হোক, কেউ আলাদা গুরুত্ব পাবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্দির পরিচালনায় ‘সবার জন্য সমান সুযোগ’ দেওয়ার বার্তাই দিতে চেয়েছেন বিধায়ক। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে মন্দিরে সেলিব্রিটিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়াকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সাধারণ ভক্তদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে হলেও তারকাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে ক্ষোভ ছড়িয়েছিল বহু মানুষের মধ্যে।
উল্লেখ্য, নৈহাটির বড়মা শুধু একটি মন্দির নয়, শহরের আবেগের অন্য নাম।শতবর্ষ প্রাচীন এই জাগ্রত বড়মাকে কেন্দ্র করে আজও অটুট রয়েছে অসংখ্য মানুষের আস্থা ও ভক্তি। দীপান্বিতা কালীপুজোর সময় মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকা ভক্তসমাগমে ভরে ওঠে। তবে এখন শুধু উৎসবের দিনেই নয়, সারা বছরই বড়মার দর্শনে ভিড় লেগেই থাকে। উত্তর ২৪ পরগনা ছাড়াও নদিয়া, হুগলি, কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ নৈহাটিতে এসে বড়মাকে পুজো দেন ও দর্শন করেন।
দিনের পর দিন বাড়তে থাকা ভক্তসমাগম সামাল দিতেই এবার নতুন উদ্যোগের ভাবনা সামনে এসেছে। দর্শনার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং পুজোর আয়োজনকে আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পৃথক লাইন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে পুজো আর দর্শনের জন্য একই লাইন হয়। যাঁরা শুধু দর্শন করবেন, তাঁদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা এবং যাঁরা পুজো দেবেন, তাঁদের জন্য আলাদা লাইন করার চিন্তাভাবনা চলছে। এখন ১৪ মের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে নৈহাটির মানুষ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে বড়মার মন্দিরে নতুন কমিটি গঠনের পর পরিচালন ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা, দ্রুততা এবং নতুন কর্মপদ্ধতির ছাপ দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।





