প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) দেশবাসীর কাছে আগামী এক বছর সোনা ও রুপো না কেনার আবেদন জানানোর মাত্র এক দিনের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার থেকে সোনা ও রুপোর আমদানির উপর শুল্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে এই দুই মূল্যবান ধাতুর উপর মোট ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছিল, এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে ১০ শতাংশ বেসিক আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে সোনা ও রুপোর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। কারণ আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরো বাজারে।
কেন্দ্রের মতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল বিদেশ থেকে সোনা আমদানির পরিমাণ কমানো। এর ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে এবং ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যপতনও রোখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা ব্যবহারকারী দেশ। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনার চাহিদা তৈরি হয়। অথচ দেশের নিজস্ব উৎপাদন খুবই কম—মাত্র ১ থেকে ২ টন। ফলে প্রয়োজনের প্রায় ৯০ শতাংশ সোনাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আর সেই আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।
সম্প্রতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারেও বড় ধাক্কা লেগেছে। মে মাসের শুরু পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ প্রায় ৭৭৯ কোটি মার্কিন ডলার কমেছে। ফলে কেন্দ্র এখন অপ্রয়োজনীয় আমদানিতে লাগাম টানতে চাইছে।
এ ছাড়াও পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। তেলের আমদানি খরচ বাড়ায় দেশের উপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে সোনা আমদানির বিপুল খরচ যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
এই সব কারণ বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীকে সাময়িকভাবে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিলেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।





