Header AD
Trending

আলু চাষিদের জন্য বড় ঘোষণা! আন্তঃরাজ্য সীমানায় দুর্ভোগ ঘোচাতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

suven potato

তৃণমূল জমানায় চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলে এবার কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister Of West Bengal) শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার নবান্ন থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আন্তঃরাজ্য সীমানায় আলু চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর হওয়া আর কোনওরকম হেনস্তা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, “আজ থেকেই এই হয়রানি বন্ধ হবে।” বিশেষ করে আলু ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত নজরদারি ও নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছিল। এদিন সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।শুধু আলু নয়, ফল, সবজি ও শস্য চাষিদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

রাজ্যে উৎপাদিত আলু, ফলমূল, সবজি ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্য ভিন রাজ্যে পাঠাতে গিয়ে এতদিন নানা সমস্যার মুখে পড়তে হত চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে আলু চাষিদের তৃণমূল আমলে প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বুধবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নবান্ন থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবার থেকেই সেই পরিস্থিতির বদল ঘটছে। আন্তঃরাজ্য সীমানায় কৃষিজ ফসল বা প্রাণী সম্পদ নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনও চাষি, ব্যবসায়ী বা উৎপাদককে আর অযথা আটকে রাখা বা হয়রানি করা যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি সরকারি নোটিফিকেশনও জারি হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। রাজ্যের কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার স্বার্থে প্রশাসনকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব পড়ে বাজার ও সাধারণ মানুষের উপরও।

কোভিড পরবর্তী সময়ে রাজ্যে আলুর দাম ও যোগান নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভিন রাজ্যে আলু রপ্তানির উপর একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, তার জেরে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন আলু চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক হারাতে শুরু করেন রাজ্যের আলু ব্যবসায়ীরা। ভিন রাজ্যের বাজারে পশ্চিমবঙ্গের আলুর চাহিদা থাকলেও প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এমনকী, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে আলু বোঝাই ট্রাক বা লরি রাজ্যের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিভিন্ন আন্তঃরাজ্য সীমানায় সেগুলি আটক করা হত। বহু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও পরিবহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। ফলে একদিকে যেমন চাষিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহণ শিল্পও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কৃষিজ পণ্য পরিবহণে সেই কঠোর নিয়ন্ত্রণই পরবর্তীতে রাজ্যের আলু ব্যবসায় বড় ধাক্কা এনে দেয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

পরবর্তীতে রাজ্য সরকার আলু রপ্তানির উপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নিলেও, সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলেই অভিযোগ। এখনও ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর সময় বিভিন্ন আন্তঃরাজ্য সীমানায় পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে ব্যবসায়ী ও পরিবহণকারীদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি উঠছে। এর প্রভাব শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, পড়েছে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও। বাংলা থেকে আলুর সরবরাহ কমে যাওয়ায় ওড়িশার মতো রাজ্যে আলুর দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিমবঙ্গের বদলে অন্য রাজ্য থেকে বেশি দামে আলু কিনতে বাধ্য হয় ওড়িশা সরকার। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে আরও কয়েকটি রাজ্যকেও।এই পরিস্থিতিতে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার।