২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে চর্চিত মুখগুলির মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফলতার TMC প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। কিন্তু ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা এবং তৃণমূলের খারাপ ফলের পর গত কয়েকদিন তিনি ছিলেন জনসমক্ষে অনুপস্থিত। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। প্রায় দশ দিন পর শুক্রবার ফের প্রকাশ্যে এসে বন্ধ হয়ে থাকা দলীয় কার্যালয় খুললেন জাহাঙ্গির। সেখান থেকেই তাঁর বার্তা, “ঝুঁকেগা নেহি”।
নির্বাচন কমিশন (ECI) এবারের ভোটে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছিল। ডায়মন্ড হারবার এলাকায় ভোট পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে আনা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের পরিচিত পুলিশ আধিকারিক অজয়পাল শর্মাকে, যিনি ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ হিসেবেও পরিচিত। ফলতা এলাকায় গিয়ে জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে তাঁর সংঘাত রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ভোটের আগে নিজস্ব পরিমণ্ডলে ‘সিঙ্ঘম’ নামে খ্যাত অজয়পাল শর্মা জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এরপরই জাহাঙ্গির নিজেকে ‘পুষ্পা’ চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছিলেন, “ঝুঁকেগা নেহি”। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়। বিজেপি কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলে, একজন প্রার্থী কেন সিনেমার অ্যান্টি-হিরোর সংলাপ ব্যবহার করছেন।
শুক্রবার দলীয় কার্যালয় খোলার পর পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাহাঙ্গির। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটে মাত্র ৩২টি বুথ নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল, অথচ নির্বাচন কমিশন ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “তা হলে আসলে হারল কে? আমি?”
এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর। দু’জনেই ভোট পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জাহাঙ্গিরের অভিযোগ, ভোটের সময় পুলিশ পর্যবেক্ষকের পক্ষ থেকে প্রচুর চাপ তৈরি করা হয়েছিল। তবুও তিনি ভোট পরিচালনা করেছেন বলে দাবি করেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় তিনি কিছুদিন চুপ ছিলেন বলেও জানান জাহাঙ্গির। তাঁর বক্তব্য, এলাকায় যাতে অশান্তি না ছড়ায় এবং কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সেই কারণেই তিনি নীরব ছিলেন। তবে এলাকা ছাড়েননি বলেও দাবি করেন তিনি।
উপনির্বাচনের আগে নতুন করে প্রচারে নামার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করছেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। নিজেকে এলাকার ‘ভূমিপুত্র’ দাবি করে তাঁর মন্তব্য, “ঝড় এলে মাথা একটু নিচু করতে হয়। আমরাও কিছুদিন মাথা নিচু করেছিলাম। এবার আবার মাথা তুলে দাঁড়াব।”





