আগামী ২১ মে ফলতা (ReElection 2026) বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাজনৈতিক সভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সভা থেকে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন TMC নেতা জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan)। একইসঙ্গে নাম না করেই কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (Abhishek Banerjee)।
সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘‘ওই ডাকাতটা কোথায়, পুষ্পা না কী যেন নাম। যত অভিযোগ করেছে সাধারণ নির্বাচনের সময়, সবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। গুন্ডামি করতে দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন। সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেখব না। কোথায় পুষ্পা, কোথায় আপনি? দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ১৯ জনকে নটোরিয়াস ক্রিমিনাল ঘোষণা করেছিল মানবাধিকার কমিশন। তার মধ্যে ভাইপোর জাহাঙ্গির ছিল। ওর ব্যবস্থা করব। আমার উপর ছেড়ে দিন সেই দায়িত্ব।’’
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের দেওয়া ১৯ জন অভিযুক্তের তালিকায় জাহাঙ্গির খানের নাম ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ফলতা বিধানসভার একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর পুরো কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই ভোটকে সামনে রেখেই বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডার সমর্থনে প্রচারে নামেন শুভেন্দু।
সভায় তিনি বলেন, “সাধারণ নির্বাচনের সময় যত অভিযোগ এসেছে, সব কিছুর তদন্ত হবে।” পাশাপাশি তৃণমূলকে নিশানা করে তাঁর দাবি, “ভাইপো যতদিন ছিলেন, মানুষ ঠিকমতো ভোট দিতে পারেননি।” তবে এবার শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাসও দেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দুর দাবি, কলকাতায় তাঁর একাধিক সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, “সব হিসাব নেওয়া হবে।” এছাড়াও ‘অভয়া’ মামলার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর অভিযোগ, প্রমাণ লোপাট ও ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশের উদ্দেশে শুভেন্দুর নির্দেশ, কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, “ভাইপোর পিএ-র নির্দেশে এলাকায় যারা অত্যাচার ও অশান্তি করেছে, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”





