মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্রিয় হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিল নতুন সরকার। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
তবে এদিনের বৈঠকে ডিএ সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। যদিও মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ডিএ নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া ডিএ ইস্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। নির্বাচনের আগে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা, এমনকি অমিত শাহও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে। অবশেষে সরকার গঠনের মাত্র ৯ দিনের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়নের পথে এগোল।
গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বাংলায় প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এরপর ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে নতুন সরকার।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্যে নতুন পে কমিশন গঠন করা হয়। রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তাই সপ্তম পে কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
এখন সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ফ্যাক্টর ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে যাঁদের বেসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা, তা বেড়ে প্রায় ৫২ হাজার থেকে ৫৬ হাজার টাকার মধ্যে পৌঁছতে পারে। ফলে নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।





