Header AD
Trending

‘পাথরবাজি বন্ধ’! পার্ক সার্কাস কাণ্ডে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ মুখ্যমন্ত্রীর, আটক মূল অভিযুক্ত

suvendu police 2

“পুলিশের গায়ে হাত পড়লে কাউকে ছাড়া হবে না”।পার্ক সার্কাসে রবিবারের অশান্তির পর এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার।ঘটনার তদন্তে নেমে এবার মূল অভিযুক্ত হিসেবে ফরিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লোকজন জড়ো করার পিছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই তাঁকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার কলকাতার ডিসি অফিসে আহত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় কোনওভাবেই পাথরবাজি বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর হুঁশিয়ারি, “কাশ্মীরে পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে। এখানেও বন্ধ হবে। যদি মনে করেন আগের সরকার আছে, আগের নিয়ম আছে, তাহলে খুব ভুল করছেন। আমি বলে যেতে চাই, কেউ পাথর হাতে তুলে নেবেন না। এটাই শেষ ঘটনা। এর পর এমন ঘটনা ঘটলে আমার চেয়ে খারাপ পুলিশমন্ত্রী আর কেউ হবে না।”মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া থাকছে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কোনও রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা সম্প্রদায়ের কথা না ভেবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেন শুভেন্দু।

রবিবার বুলডোজার অভিযান-সহ একাধিক ইস্যুর প্রতিবাদে পার্ক সার্কাস এলাকায় জমায়েত হয়েছিল একদল বিক্ষোভকারী। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়। বেশ কয়েকটি সরকারি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন পুলিশকর্মী আহত হন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ানও আক্রান্ত হন বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ ঘটনার আগে অনেকেই এই এলাকায় দাঁড়িয়ে সোশাল মাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করেছেন। পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা কোনওভাবেই ছাড় পাবেন না।”

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ফের স্পষ্ট করে দেন, এই ধরণের কার্যকলাপের ক্ষেত্রে নতুন সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই চলবে। তাঁর কথায়, “কান খুলে শুনে রাখুন, এটাই শেষ ঘটনা। এরপর এমন ঘটনা ঘটলে আমার চেয়ে খারাপ পুলিশমন্ত্রী আর কেউ হবে না।” পুলিশের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “এই ধরনের গুণ্ডামি, গা জোয়ারি, ভাঙচুর, দেশ বিরোধী এবং সমাজ বিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করব না। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে লাস্টবার বললাম। একটা পুলিশের গায়ে যদি হাত পড়ে এই সরকার তার আইন প্রয়োগ করে যতদূর যেতে হয় যাবে।”পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কোনও দ্বিধা না করতে।