হাতে আর মাত্র এক দিন বাকি।আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন। তার আগে আজ, মঙ্গলবার ভোটের প্রচার শেষ হচ্ছে। এই শেষ মুহূর্তে এসে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করলেন, “আমি এই ভোটে লড়ছি না।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। যদিও এই সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ভূমিকা রয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গির বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’তিনি আরও ,বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভাল থাকুক। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলা ধরে আসে সাদা শার্ট-কালো ট্রাউজ়ার্স পরিহিত ‘পুষ্পা’র। তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’
কিন্তু হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত কেন? দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কি নির্দেশ দিয়েছেন? সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গির ঘুরিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে যান। তিনি আবার বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের স্বার্থে, ফলতার মানুষের জন্য সরে (ভোটের লড়াই থেকে) যাচ্ছি। এত দিন অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। আর কিছু বলব না।’’
ফলতার ‘ডাকাবুকো’ নেতা হিসাবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে থেকেই শিরোনামে তিনি। ওই এলাকায় ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশের দুঁদে পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। ভোটের মধ্যেই গত ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার হুঁশিয়ারির পরেও জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।’ তারপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল ঘটে। গেরুয়া শিবিরের ঝড়ে কার্যত পর্যুদস্ত তৃণমূল। এরমধ্যেই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচও নিয়েছেন। কিন্তু এরমধ্যেই ঝুঁকে গেলেন পুষ্পা!
এদিকে জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্তকে তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলীয় নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। এই বিষয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোস্ট করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। জাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেছেন, এর ফলে দল নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। তাঁর কথায় “পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি, বলেছিল।তাহলে পুষ্পা ঝুঁকল কেন? এতো দলের জন্য ভালো বিজ্ঞাপন নয়।যিনি হেঁটে চলে বেড়ালে, সারাক্ষণ বস বস বস মিউজিক বাজত- সেই বসের কি হল?এতো ভয় পেল কেন?এই এলাকা তো দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এলাকা।তিনিই ভালো বলতে পারবেন।পুষ্পা ঝুঁকল কেন??”





