‘কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল পরিণত হল ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে !!!’ ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভাষাতেই তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি নাম না নিলেও তাঁর কটাক্ষের নিশানায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পাশাপাশি ফলতা পুনর্নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের জন্য এলাকার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘আমি ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর জন্য ফলতার জনতা-জনার্দন গণদেবতাকে নত মস্তকে প্রণাম জানাই। ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ, বিজেপির প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ’।
এরপরই তৃণমূলকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুঠ, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল।‘
কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তিনি লিখেছেন, ‘প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনও অপরাধ নেই যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনও কসুর করেনি এই ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’। ফলস্বরূপ, বিগত নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। ১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন আসল বাস্তব প্রকাশিত হল।‘
এমনকি আগামী দিনে আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ‘নোটা’-র কাছেও পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী!’





