শনিবার সোনারপুরে নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। কামালগাজি থেকে শুরু করে সোনারপুরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা প্রদর্শন, স্লোগান এবং ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।এমনকি সাংসদের গায়ে হাত তোলা হয়, ছিঁড়ে দেওয়া হয় তাঁর জামা। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে কামালগাজি এলাকায় একদল মহিলা অভিষেককে কালো পতাকা দেখিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরপর সোনারপুরে প্রবেশ করতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়। সেই ডিমে তাঁর পোশাক নোংরা হয়ে যায়।
পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠলে অভিষেক গাড়ি থেকে নেমে একটি মোটরবাইকে করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। মাথায় হেলমেট থাকায় ডিমের আঘাত থেকে তিনি বড়সড় চোট এড়াতে সক্ষম হন বলে জানা যায়।
অভিযোগ, বিক্ষোভের সময় তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো, কাদা ও ঢিলও ছোড়া হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় এবং মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানান, ‘‘এই হল ডবল ইঞ্জিনের নমুনা। সবাই চেয়েছিল, ডবল ইঞ্জিন হোক। ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরবে। আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি।কিন্তু এই পরিবারের উপর হামলা হবে তারপর। আমি এখন এঁদের ছেড়ে যেতে পারব না। বাহিনী পাঠিয়ে আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।” সূত্রের খবর, ওই পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন অভিষেক।পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপেক্ষায়। শোনা যাচ্ছে, সোনারপুরে অভিষেকের উপর এত বড় হামলার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূলনেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।





