Header AD
Trending

সই জালিয়াতি বিতর্কে তৃণমূলের বড় পদক্ষেপ! দল থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত-সন্দীপন

rito sandipan

বিধানসভার সই জালিয়াতি বিতর্ক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহেই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritobroto Banerjee) এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে (Sandipan Saha) বহিষ্কার করল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)। জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দুই বিধায়ককে ইমেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারকেও চিঠি পাঠিয়েছে দল।

সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানা-য় অভিযোগ দায়ের করে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বিষয়টি জানার পর তিনি তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে বহিষ্কারের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ১৯ তারিখ কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে যে উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, সেই খাতার একটি পাতা ছিঁড়ে পরে সেটিকেই রেজোলিউশনের নথি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তাঁদের মতে, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক।

দুই বহিষ্কৃত বিধায়কের বক্তব্য, “আমরা ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলাম বলেই দল আমাদের বহিষ্কার করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করায় আমাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, সই জালিয়াতি বিতর্কে ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল নেতার বাড়িতে তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি চালানোর খবর সামনে এসেছে। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বাসভবনেও তদন্তকারীরা গিয়েছেন বলে জানা যায়। ফলে এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে তৃণমূলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পরেই সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। যেখানে নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। কুণাল ঘোষ লিখছেন, ‘এবার বিধানসভা নির্বাচনে দলনেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের প্রতীকেই আমি এবং আমরা বিধায়ক। ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা?? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন?? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব?? এটা কাপুরুষতা।’

সমাজমাধ্যমে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক আরও লিখছেন, ‘দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না হলে তারপর দেখা যাবে। তার আগেই ‘ভালো’ সাজার এত চেষ্টা? অনেকের এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই তো??? যাঁরা দলের কাছ থেকে বহু দায়িত্ব, পদ, ক্ষমতা এতদিন পেয়ে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ক’জন আজ সামনে আছেন? বাকিরা কোথায়? দলের ভালোর সময়ে ক্ষমতা, ছবি, সেলফি; আর খারাপ সময়ে হাঁটু কাঁপছে???? ভয়??? আপনি বিরোধী বিধায়ক হতে ভয়??? সরকারপক্ষে থাকলে সাহসী?? দলের তরফে বিধায়ক হওয়ার পর দলের বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে দলকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ? এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা!!! কর্মীরা বিচার করবেন। দল আবার ঢেলে সাজাবেন নেত্রী। একটু অপেক্ষা করা গেল না?’