মহারাষ্ট্র মডেলের জল্পনা তুঙ্গে এরাজ্যের বিরোধী শিবির তৃণমূলে! এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress)অভ্যন্তরীণ সংকট। দলের অন্দরে ক্রমশ বাড়তে থাকা অসন্তোষ ও বিভাজনের জেরে ‘গৃহযুদ্ধের’ আবহ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাংলাতেও কি মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে-শৈলীর রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতে চলেছে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বিধানসভায় যান তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritobroto Banerjee)। কী ছিল সেই নথিতে?
গত রবিবারই পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলেছিল। তৃণমূল নেতৃত্বের ডাকা বিধায়কদের বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন। উপস্থিতির অভাবে শেষ পর্যন্ত বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য হন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে, সূত্রের খবর সোমবার বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার ডাকা বৈঠকে কয়েক ঘণ্টার নোটিশেই যোগ দেন ৩০-রও বেশি অসন্তুষ্ট তৃণমূল বিধায়ক। তাঁদের দাবি, বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি দ্রুত বাড়ছে।
এই আবহে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক তাপস রায়। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে স্পিকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন ঋতব্রত।” পোস্টের শেষে তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, “খেলা হবে” — যে স্লোগান দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার ছিল।

পরে মঙ্গলবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় আরও দাবি করেন, “তৃণমূল এখন কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত। এতদিন ভয় ও চাপের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে পারেননি। এখন সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছে।” তাঁর বক্তব্য, দলের ভাঙন যত বাড়ছে, তাতে তিনি রাজনৈতিকভাবে সন্তুষ্ট।
এদিকে খবর, গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, প্রায় ৫০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। যদিও স্পিকার বর্তমানে দিল্লিতে থাকায় চিঠিটি বিধানসভার সচিবের কাছেও জমা পড়তে পারে।
সূত্রে মারফত জানা যাচ্ছে, ওই চিঠিতে নাকি নতুন তৃণমূল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের প্রকৃত অধিকার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর, কোনও ব্যক্তিবিশেষের নয়। এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





