Header AD
Trending

কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন ফিরহাদ হাকিম! ইস্তফাপত্র গ্রহণ করলেন মমতা

KMC Tax

রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম (Mayor Firhad Hakim)। বুধবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে নিজের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং দলনেত্রী তা গ্রহণ করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই দিনে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা সীমিত হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলছিলেন ফিরহাদ। তাঁর দাবি ছিল, মেয়র পদে থাকা সত্ত্বেও কলকাতা পুরসভার অধিকাংশ কাজ পুর কমিশনারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, ফলে কার্যত তাঁকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে দলীয় অভ্যন্তরীণ বৈঠকেও একাধিকবার তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে এতদিন সেই প্রস্তাবে সায় দেননি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরই মাঝে মঙ্গলবার মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের পদত্যাগের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। সে সময় ফিরহাদ মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা একটি দল হিসেবে কাজ করি। যা সিদ্ধান্ত নেব, একসঙ্গেই নেব।” তাঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে মেয়র পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো হয়তো শুধু সময়ের অপেক্ষা।

বুধবার সেই জল্পনারই অবসান ঘটে। বিধানসভায় যখন ‘আসল তৃণমূল’-এর বিধায়কদের বৈঠক চলছিল, তখন ফিরহাদ হাকিম কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে মেয়র পদ থেকে সসম্মানে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রথমে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন দলনেত্রী। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ফিরহাদ। শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।

এপ্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মেয়র হিসেবে কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারার কারণেই ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলনেত্রী তাঁর সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন এবং ইস্তফা গ্রহণ করেছেন।

ফিরহাদের পদত্যাগের পর আপাতত কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব পুর কমিশনারের হাতেই থাকবে। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার চাইলে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে। যদিও আগামী ডিসেম্বরেই পুরভোট হওয়ার কথা, তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেই নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।