বিধাননগর পুরনিগমের মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty)। বৃহস্পতিবার তিনি ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করে পুরনিগমের কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা, বিশেষ করে বিধাননগর পুরনিগমে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ অস্থির। প্রশাসনিক ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে মতভেদ এবং একাধিক নেতার পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। পাশাপাশি দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে কয়েকজন নেতার গ্রেপ্তারিও দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যেই বুধবার কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।তাঁর সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহেই কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ইস্তফা নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণকে নাড়া দিল।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে বিধাননগর পুরনিগমের সঙ্গে যুক্ত। এই সময়ে তিনি বরো চেয়ারম্যান থেকে মেয়র— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। স্থানীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক বিরোধিতার আবহেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক এবং উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে তেমন কোনও জনরোষ বা বিতর্ক না থাকায় আচমকা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অনেককেই বিস্মিত করেছে।
যদিও তিনি ব্যক্তিগত কারণকেই ইস্তফার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবু রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপের পেছনে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করতে পারে।
এ দিন মেয়রের ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “পুরোপুরি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। নিজের জন্য সময় দরকার। কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করব। বিধাননগরের মানুষের কাছে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমি কৃতজ্ঞ।” দল বা কারও প্রতি অভিমান রয়েছে কি না? জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “কারও প্রতি কোনও অভিমান নেই। অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।”
ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগ কি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি এর প্রভাব পড়তে চলেছে বিধাননগর পুরনিগমের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপরও? আগামী দিনে সেই উত্তরই খুঁজবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।





