বিধানসভার বিতর্কিত ‘সই-কাণ্ড’-এর তদন্তে আরও সক্রিয় হল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। তদন্তের সূত্রে বৃহস্পতিবার রাতে তারা কলকাতার চেতলায় অবস্থিত ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বাড়িতে পৌঁছয়। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া একটি চিঠিতে থাকা স্বাক্ষর সংক্রান্ত অসঙ্গতি নিয়ে মেয়রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
একই দিনে আদালতের নির্দেশে তৃণমূলের তিন বিধায়ক—বাহারুল ইসলাম (Baharul Islam), অরূপ রায় (Arup Roy) এবং শুভাশিস দাস (Subhashis Das) নিজেদের হাতের লেখার নমুনা জমা দেন। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে এই নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি।
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল পরিষদীয় দলের একটি চিঠিকে ঘিরে। ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovandeb Chattopadhyay)-কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, চিঠির একাধিক স্বাক্ষর ও নামের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। চিঠিতে তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে ফিরহাদেরও স্বাক্ষর ছিল। সেই স্বাক্ষর কীভাবে এবং কখন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।
এর আগে তদন্তকারীরা তৃণমূলের আরও কয়েকজন বিধায়কের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (Nayana Bandyopadhyay )এবং কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁদের বাড়িতে গিয়েও সিআইডি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং ভিডিওগ্রাফি করেছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতেও যায়। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে তাঁর স্বাক্ষরও ছিল বলে জানা গিয়েছে। ভবানী ভবনে হাজিরার নোটিশ পাওয়ার পর সম্ভাব্য গ্রেফতারের আশঙ্কায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এ বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বিতর্কিত ওই চিঠিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেপুটি লিডার হিসেবে অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এবং চিফ হুইপ হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। মোট ৭০ জন বিধায়কের নাম থাকলেও অন্তত ১৪ জনের নাম ব্লক লেটারে লেখা ছিল বলে অভিযোগ। এছাড়া একাধিক স্বাক্ষরে অসঙ্গতিও নজরে আসে।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী( Suvendu Adhikari) দাবি করেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Bandyopadhyay) এবং সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha) স্বাক্ষর সংক্রান্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন। এরপরই দল তাঁদের বহিষ্কার করে।
এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে বুধবার ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেন। এতে দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে নিলেও শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানতে নারাজ একাংশ বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে সই-কাণ্ডের তদন্ত ও তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।





