পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোরালো হয়েছে জল্পনা—বিধানসভার পর এবার কি লোকসভা! বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর এবার কি লোকসভায় দলের সংসদীয় শিবিরেও ভাঙনের সুর শোনা যাবে? এই বিতর্কের মধ্যেই বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) ফের সরব হয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেছেন।সামাজিক মাধ্যমে কাকলি লিখেছেন, ভোটে মানুষের রায় আসলে সরকারের নীতি ও কাজকর্মের বিরুদ্ধে।
তাঁর দাবি, জনগণ পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থান ও নীতির বিরুদ্ধেই মত প্রকাশ করেছে, যার ফলেই নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফল হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জবাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন ধর্মতলার ওয়াই-চ্যানেলে আন্দোলন মঞ্চ থেকে নাম না করে কাকলিকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিধানসভা নির্বাচনে কাকলির পুত্রকে প্রার্থী না করায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এবং সেই কারণেই দলবিরোধী মন্তব্য করছেন।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কাকলি নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে লেখেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল ছিলেন। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, তিনি মানুষের রায় এবং সরকারের ব্যর্থতার কথাই তুলে ধরছেন।
একই সঙ্গে একটি কবিতার অংশও তিনি শেয়ার করেন, যার মূল বক্তব্য—কর্তব্যপালনের পথে চললে শত্রু তৈরি হবেই; যার কোনও শত্রু নেই, তিনি প্রকৃত অর্থে কোনও কাজই করছেন না।
কাকলি ও মমতার সম্পর্ক বহু পুরনো। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। তবে সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব পান শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকেই প্রকাশ্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত দিতে শুরু করেন কাকলি। পদ হারানোর পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “১৯৭৬ সালে পরিচয়, ১৯৮৪ সালে একসঙ্গে পথচলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য এটাই কি পুরস্কার?”
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন তিনি নদিয়ার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হন। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাঁর জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়।
অন্যদিকে, বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলে সাম্প্রতিক মতভেদের ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত করলেও, দলের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদে দেখতে চেয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেয়।
এখন নজর লোকসভার দিকে। সেখানে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর নেতৃত্ব নিয়েও দলের অন্দরে অসন্তোষ রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। ফলে বিধানসভার মতো লোকসভাতেও কোনও সাংগঠনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলবে কি না, আর সেই সমীকরণে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা নিয়েই জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।





