ডবল ইঞ্জিনের জোরে বাংলায় এবার রেলের মহাপরিকল্পনা! ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্পে বদলাবে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামোর এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের (Ashwini Baishnav) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে রাজ্যে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এর ফলে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিও রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে বলে দাবি তাঁর।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। তাঁর কথায়, আগের সরকার রেলমন্ত্রকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেনি, যার ফলে উন্নয়নের গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘রেলের সঙ্গে আগের সরকারের যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব ছিল। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক তারা এত খারাপ জায়গায় নিয়ে যায়, সে কারণ বাংলার মানুষ বঞ্চিত। মোদীজি যে উন্নয়ন করেছেন, তা থেকে বাংলার ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত।’’ তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত কাজ এগোবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি জানান, চলতি অর্থবর্ষে রেল ও মেট্রো প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশনের উন্নয়ন, ৫৩৮টি রেল ওভারব্রিজ এবং আন্ডারপাস নির্মাণের কাজও হাতে নেওয়া হবে। এই সব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে রাজ্য সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেই সব এলাকাকে, যেগুলি এখনও পর্যন্ত রেল মানচিত্রে সেভাবে জায়গা পায়নি। করিমপুর, তেহট্ট, জলঙ্গি, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম এবং হিলির মতো অঞ্চলে রেল পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলকে আরও শক্তিশালী রেল যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এর আগে কলকাতায় পৌঁছে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বিমানবন্দর থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রো সফর করেন। তিনি অটোতেও যাত্রা করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বেশ কয়েকটি প্রকল্পে ইতিমধ্যেই অগ্রগতি শুরু হয়েছে। চিংড়িহাটা মেট্রো প্রকল্পের জট মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাটানো হয়েছে। রাজ্য সরকার রেলকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বৈঠকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘আগামী দিনে অনেক ভাল কাজ হবে। রাজ্যের প্রতি মোদীজির যে ভালবাসা রয়েছে, তার উদাহরণ কলকাতা মেট্রো। ১৯৭২ সালে কাজ শুরু হয়। ৪২ বছরে ২৮ কিলোমিটার পথ ছিল। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো তৈরি করেছেন মোদীজি।’’
বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কর্তাদের স্পষ্ট বার্তা দেন— “রেলকে গোটা রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, কাজ করতে হবে। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ, রেল জমি কিনতে টাকা দেয়। যেখানে দরকার, জমি আমরা কিনে রেলকে দেব।’’ তার পরেই আরও কড়া সুরে বলেন, ‘‘রেল যেমন সহযোগিতা চাইবে, করতে হবে। ক্যালেন্ডার তৈরি করুন, কবে, কোন জায়গায় রেলের জমি দিতে পারবেন!’’





