ভাঙড়ের বোমা বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা-কে (Saokat Molla) শনিবার ব্যাঙ্কশালের এনআইএ বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA) দাবি করে, এই ঘটনার অন্যতম নয়, বরং ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ ছিলেন শওকত। তাঁর জামিনের বিরোধিতা করে ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করায় আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত এনআইএর হেফাজতেই থাকতে হবে তাঁকে।
গ্রেপ্তারের পর শওকতের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করেছে এনআইএ। আদালত ওই ইলেকট্রনিক সামগ্রীগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষার অনুমতিও দিয়েছে। এর আগে এই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন বর্তমানে জেল হেফাজতে এবং একজন এনআইএ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষার আবেদনও আদালত মঞ্জুর করেছে।
শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে শওকত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। শনিবার আদালতে তাঁর আইনজীবী সুমন দাস জামিনের আবেদন জানান। পাল্টা এনআইএর আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে শওকত এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। জামিন পেলে তিনি তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারেন বা সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারেন। সেই কারণেই তাঁকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, শওকত জেড-প্লাস নিরাপত্তা পান। এমন নিরাপত্তা বলয় ভেঙে তাঁর পক্ষে বিস্ফোরণের মতো ঘটনার পরিকল্পনা বা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের বামুনিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার তদন্তভার পরে এনআইএর হাতে যায়। তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভাঙড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয়-সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। তবে তল্লাশির আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
শনিবার সকালে একটি বিবৃতিতে এনআইএ জানায়, তদন্তে উঠে এসেছে যে শওকত মোল্লা এই বিস্ফোরণ চক্রের মূল পরিচালনাকারী ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলের প্রমাণ নষ্ট করার নির্দেশও তিনি দিয়েছিলেন। এনআইএ আরও জানিয়েছে, ঘটনায় আহত ও মৃতদের নিজের স্করপিও গাড়িতে করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আরেক অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মনে করা হচ্ছে,
এনআইএর দাবি ও আদালতের নির্দেশের পর এবার তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে শওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনার চেষ্টা করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।





