বিধানসভা নির্বাচনে(Election In Bengal) বড় ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, পরিষদীয় দলের পর এবার সংসদীয় দলেও বড়সড় বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ ও বিধায়ক বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাহলে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে শুধু সাংসদ বা বিধায়কদের সমর্থন পেলেই কি কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলের নাম, প্রতীক এবং তহবিলের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যাবে? বিষয়টি এতটা সহজ নয়। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
আসল দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে কী করতে হবে?
যদি কোনও গোষ্ঠী দাবি করে যে তারাই দলের প্রকৃত উত্তরসূরি, তাহলে তাদের নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। সেই আবেদনের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে সমর্থনপত্র।
এক্ষেত্রে শুধু বিধায়ক বা সাংসদদের সমর্থনই যথেষ্ট নয়। দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরের পদাধিকারীদের মধ্যেও কারা কোন পক্ষের সঙ্গে রয়েছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
নির্বাচন কমিশন কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়?
এ ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে। সাংসদ, বিধায়ক এবং দলের পদাধিকারীদের মতামত ও সমর্থনের ভিত্তিতে কমিশন নির্ধারণ করে কোন গোষ্ঠীকে ‘আসল দল’হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
যে পক্ষের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি ও সংগঠনিক সমর্থন থাকবে, সাধারণত তারাই দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক এবং তহবিলের অধিকার পায়। অন্য পক্ষকে নতুন দল হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্পষ্ট না হলে কী হয়?
কখনও কখনও পরিস্থিতি এমন হয় যে কোনও পক্ষেরই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সাময়িকভাবে দলের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দিতে পারে।
তখন উভয় গোষ্ঠীকেই নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে হয়। প্রয়োজনে দলের তহবিলও নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কী হতে পারে?
ধরা যাক, কোনও রাজনৈতিক দলে পরিষদীয় এবং সংসদীয় স্তরে বিদ্রোহী শিবির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। একই সময়ে যদি দলের সাংগঠনিক কমিটিগুলিও ভেঙে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সংগঠনের প্রকৃত সমর্থনের হিসাব নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে বিরোধ নির্বাচন কমিশনের কাছে গেলে কমিশন সমস্ত তথ্য-প্রমাণ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সামনে খোলা থাকে।
সব মিলিয়ে, কোনও দলের ভাঙনের ক্ষেত্রে শুধু বিধায়ক বা সাংসদের সংখ্যা নয়, সংগঠনের ভিতরে কার সমর্থন কতটা রয়েছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার থাকে নির্বাচন কমিশনের হাতেই।





