একুশের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বিজেপি কর্মীদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সম্প্রতি নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সভা থেকে তিনি জানান, চলতি জুন মাসের মধ্যেই নিহত ৩১৫ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একাধিক নির্বাচনী প্রচার সত্ত্বেও দলটি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। অন্যদিকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, ভাঙচুর ও অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির দাবি ছিল, সেই সময় প্রায় ৩২১ জন কর্মী রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। বিষয়টি নিয়ে আদালত পর্যন্ত মামলা গড়ালেও বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায় ছিল।
পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন এনে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই নিহত ও আক্রান্ত কর্মীদের পরিবারগুলির মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
নির্বাচনী প্রচারের সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এক জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত কর্মীদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেই এবার বড় পদক্ষেপ করলেন তিনি।
এই ঘোষণার পর দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলির অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই নিয়োগপত্র বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।





