পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বড়সড় ধাক্কা। পরিষদীয় দলে ভাঙনের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও প্রকাশ্যে দেখা দিল বিদ্রোহের সুর। দীর্ঘদিনের জল্পনাকে সত্যি করে দলের একাংশের সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি জমা দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
জানা গিয়েছে, তৃণমূলের মোট ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে আপাতত ২০ জন ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল স্পিকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, তাঁরা আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে থাকতে চান না এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ- NDA)-এর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে ইচ্ছুক। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলে বড় ভাঙন দেখা যায়। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সেই ঘটনার পর থেকেই সংসদীয় দলেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল।
রবিবার দিল্লিতে তৃণমূলের একদল অসন্তুষ্ট সাংসদের বৈঠক ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ একাধিক সাংসদ। সেখানেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
পরবর্তীতে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদরা এনডিএ শিবিরে বসার অনুমতি চেয়েছেন। পাশাপাশি লোকসভায় তাঁদের পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁরা কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) করার দাবিও জানিয়েছেন।
স্পিকারের অনুমোদন মিললে লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সেই ক্ষেত্রে দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
এদিকে বিদ্রোহী সাংসদ শর্মিলা সরকার দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও আকস্মিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার ফল। তাঁর অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দুর্নীতি এবং সাংসদদের কাজে বাধা দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে? শুধু সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ নয়, আগামী দিনে দলের প্রতীক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের লড়াইও কি নতুন মোড় নেবে? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।





