সত্যিই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেস মিশে যেতে চলেছে কংগ্রেসে!রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মহা বিপর্যয়ের পর কংগ্রেসকে আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এমনই এখাধিক জল্পনা ঘিরে এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক মহলে কার্যত তোলপাড় চলছে। সূত্রের দাবি, তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধায়কে জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু প্রশ্ন হল, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই চরম দুঃসময়ে মমতাকে ‘গ্রহণ’ করে, তাহলে প্রদেশ নেতৃত্ব কি আদৌ সেই সিদ্ধান্ত মানবে? রাজ্যের যে কংগ্রেস কর্মীরা এতদিন তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত, তাঁরা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেত্রী হিসাবে মেনে নেবেন?
এই আবহে বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।রাহুলের সঙ্গে দেখা করতে ১০ জনপথে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠক হয় দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে। আর এদিকে সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। শোনা যাচ্ছে, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, সম্ভাব্য ভাঙন এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে রাহুল এবং অভিষেকের মধ্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদলবলে তৃণমূলকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পারেন এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে রাজধানীর অন্দরে। কোনও কোনও মহলের বক্তব্য, মমতা ও অভিষেকের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে একপ্রকার আলোচনাও হয়েছে দুই দলের নেতাদের শীর্ষস্তরের বৈঠকে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা থেকে লোকসভা, রাজ্যসভা- সর্বত্রই ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে (TMC)। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে INDIA-র বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা-অভিষেক (Abhishek Banerjee)। সোমবারই বিরোধী জোটের বৈঠকে মমতার সঙ্গে সনিয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। পরের দিন বিকেলেই ১০ জনপথে সোনিয়ার বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সূত্রের খবর, তৃণমূলকে কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসে থাকাকালীন রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রী ছিলেন তৎকালী যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল তৈরি করলেও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করেননি মমতা। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

ইতিমধ্যেই দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরেছেন তৃণমূল নেত্রী। যদিও বিমানবন্দরে এসে বিমানে না উঠে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে দিল্লিতে থেকে গিয়েছেন অভিষেক। আবার এদিকে কলকাতা ফিরে সাংবাদিকদের কার্যত এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল নেত্রী। ফলত বলাই চলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষ্যত নিয়ে জল্পনা জিইয়ে রাখলেন তিনি।





