Header AD
Trending

ফের চর্চায় সিঙ্গুর! ‘বাংলায় টাটাকে নিয়ে আসব’— শিল্পায়ন নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

suvendu tata

পশ্চিমবঙ্গে ফের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে টাটা গোষ্ঠী— এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্যে নতুন শিল্প প্রকল্প আনার ক্ষেত্রে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তিনি দাবি করেন, ‘বাংলায় টাটাকে নিয়ে আসব’। তবে টাটার সম্ভাব্য বিনিয়োগ সিঙ্গুরেই হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য, একসময় যেখানে টাটা মোটরসের কারখানা তৈরির পরিকল্পনা ছিল, সেই সিঙ্গুরের জমির প্রকৃতি এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “সেখানে মাটির সঙ্গে রড, সিমেন্টসহ নানা নির্মাণসামগ্রী মিশে রয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক শিল্প প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখার জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

সিঙ্গুরের নাম উচ্চারিত হলেই উঠে আসে টাটা, জমি আন্দোলন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে টাটা মোটরসের ছোট গাড়ি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া জমি আন্দোলনই পরবর্তী সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার পথকে অনেকটাই মসৃণ করেছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজ্য ছাড়ার সময় প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটা (Ratan Tata) মন্তব্য করেছিলেন, “মমতা বন্দুকের ট্রিগার টিপে দিলেন।”

পরে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয় অনিচ্ছুক কৃষকদের। কিন্তু কারখানা না হওয়া এবং জমির কৃষিযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বহু মানুষ। অনেকের বক্তব্য ছিল, “কারখানাও হল না, আবার চাষও করা যাচ্ছে না।”

বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুর এবং শিল্পায়নের প্রশ্ন আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। নির্বাচনী প্রচারে সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র সভা ঘিরেও ব্যাপক সাড়া দেখা গিয়েছিল। এবার শুভেন্দুর নতুন ঘোষণা সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। পাশাপাশি তিনি পূর্ববর্তী সরকারের শিল্পনীতি নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, “আমি আগের সরকারের মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা শুধুমাত্র ফটোসেশনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই।”