তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও তীব্র হল! দলের অন্দরে ভাঙন ও অসন্তোষের জল্পনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। সূত্রের দাবি, তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে তিনি সেখানে যান এবং দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক করেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সাক্ষাতের ফলে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে সাংসদদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইতিমধ্যেই দলের একাংশ সাংসদ ও বিধায়কদের অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। দাবি করা হচ্ছে, লোকসভায় তৃণমূলের একাধিক সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে স্পিকারের কাছেও চিঠি জমা পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Banerjee) নাম সামনে আসায় রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে। কারণ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। শুধু কলকাতা উত্তর কেন্দ্র থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সাংসদই নন, লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতার দায়িত্বও পালন করেছেন।দিল্লির রাজনৈতিক মহলে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার কথা বহুবার শোনা গেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছিল। দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এবং ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও সামনে আসে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, সেই অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিই হয়তো তাঁর অবস্থান পুনর্বিবেচনার কারণ হতে পারে।
সূত্রের খবর, শনিবারের প্রাথমিক আলোচনার পর রবিবার আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। এরপর সোমবার বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রতিনিধিদল সংসদে গিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন। তাঁদের বিষয়ে লোকসভার স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সমস্ত তথ্য এখনও মূলত রাজনৈতিক সূত্র ও জল্পনার ভিত্তিতে সামনে এসেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে পরিস্থিতির চূড়ান্ত রূপ কী দাঁড়ায়, তা জানতে এখনও অপেক্ষা করতেই হবে।
এদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এঁদের (সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়) মমতাদি মাথায় তুলে রেখেছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি কেঁদেকেঁদে বলতেন যে তাঁকে যাতে উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি করে দেওয়া হোক। আমি বলেছিলাম, মানুষ হিসেবে তাপস রায় বেশি ভালো। তখন আমাকে দল থেকে লাথি-ঝাঁটা খেতে হয়েছিল।সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এখন বুঝুন কে ভালো। এবার তিনি তো একা যাবেন না।সাদা পরচুলার সঙ্গে একটা ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লারও পাওয়া যাবে। By one get one free. মমতাদির এগুলো পাওনা ছিল।”





