Header AD
Trending

উপচে পড়া ভিড়! সময়সীমা বাড়ল জনকল্যাণ শিবিরের; অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও ফলতা থেকে স্পষ্ট বার্তা শুভেন্দুর

suvendu falta

জনসাধারণের ব্যাপক সাড়া এবং শিবিরগুলিতে দীর্ঘ লাইনের কথা বিবেচনা করে রাজ্যজুড়ে চলা জনকল্যাণ শিবিরের সময়সীমা আরও একদিন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ফলে বুধবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এই শিবির এখন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে।

বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিবিরগুলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করছেন এবং বহু আবেদন জমা পড়ছে। তাই আরও বেশি মানুষ যাতে সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সময় বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা যোজনা, সূর্য ঘর যোজনা-সহ মোট ৫৫টি জনমুখী প্রকল্পের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে এই জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে। তিনি আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১০০টি জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমে ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবির চালানোর কথা ছিল। কিন্তু মানুষের উৎসাহ ও ভিড় দেখে শিবিরের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। আপাতত এই শিবির আজ বুধবার পর্যন্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামিকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও এদিন একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন জুনের টাকা জুলাইয়ের ১ তারিখেই উপভোক্তারা পেয়ে যাবেন।অন্যদিকে এই যোজনা ঘোষণার পর থেকেই এর পদ্ধতিগত দিক নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।এত কড়া যাচাই কেন?বারবার উঠেছে সেই প্রশ্ন। ফলতার সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নেরও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতেই আবেদন প্রক্রিয়ায় বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবেদনপত্রে পরিবারের সদস্যদের তথ্য, জমির পরিমাণ, সন্তানের স্কুলের নাম এবং কোভিড টিকাকরণের তথ্য চাওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব পরিবারের সন্তান সরকারি বা সরকার-পোষিত স্কুলে পড়াশোনা করে, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে। বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রেও অনুদান মিলতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হতে হবে।তিনি দাবি করেন, অতীতে অনুরূপ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আবেদনপত্রগুলি আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।ইতিমধ্যেই এক কোটিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলেও তিনি জানান।

এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, করোনা মহামারির সময় যারা সরকারি টিকাকরণ কর্মসূচির আওতায় টিকা নেননি, তারা এই ভাতার সুবিধা পাবেন না। তাঁর মতে, সরকারি সহায়তা প্রকৃত ও নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষের কাছেই পৌঁছানো নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।