Header AD
Trending

বিকল্প জায়গার হদিশ ছাড়া উচ্ছেদ নয়! হকার উচ্ছেদ মামলায় স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের

Court Verdict

রেলের জমিতে বেআইনি দখল ও হকার উচ্ছেদকে ঘিরে চলা বিতর্কে আপাতত স্বস্তি পেলেন হকাররা। হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ মানুষের জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের সাহায্য করার কথা।বদলে তাদের সঙ্গে শত্রুর ন্যায় আচরণ করছে। বুধবার আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই যুক্তিতে আপাতত হকার উচ্ছেদে (Hawker Eviction) স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাই কোর্ট।

হাওড়া, শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গনগর, মথুরাপুর, যাদবপুর-সহ যত রেলের নোটিশ নিয়ে মামলা হয়েছে জুন মাস পর্যন্ত।এই মামলায় ইতিপূর্বে আদালত ১৭ জুন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেয়। ১৭ জুন মামলার ফের শুনানি ছিল। তখনই আদালত জানিয়ে দেয়, নতুন করে আগের নোটিশ কার্যকর করা যাবে না।

মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এদিন বলেন, “যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের সাহায্য করার কথা। ঠেলা গাড়ি, ঝুপড়ি দোকান করে হাজার হাজার পরিবার সংসার চালাচ্ছে। বলা ভালো চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের উপর আরও চাপ বাড়ানো সরকারের কাজ হতে পারে না।”তাঁর আরও যুক্তি, “রাষ্ট্র তাদের শত্রু হিসেবে আচরণ করতে পারে না। অথচ এখানে হঠাৎ বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি রাতে কোনও না কোনও জায়গায় লোকজন রাতপাহারা দিয়ে বসে থাকছেন। তাতেও বুলডোজার হামলা থেকে বাঁচতে পারছে না। যখন কেউ রেলের জমিতে বসে পড়ছেন, তখন তাকে বাধা না দিলে ২-৩ দশক পর তাকে উচ্ছেদ করা যাবে না, এটা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে আছে।”

সবপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য বলেন, “রেলের জায়গা, প্ল্যাটফর্ম যদি দখল করে দোকান বসে, সেক্ষেত্রে রেল তাঁদের তুলবে না? কিছুক্ষেত্রে রেল স্টল করে বসার ব্যবস্থা করেছিল। তাঁদের উচ্ছেদের ঘটনা কি আছে? লাইসেন্স আছে এমন লোকেদের তুলেছে এটা বলতে পারবেন?” এই মর্মে রিপোর্ট তলব করেছে হাই কোর্টে। বৈধ হকার হলে তাঁদের বিকল্প বসার জায়গার বন্দোবস্ত করতে হবে রেলকেই। তবে আপাতত উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন রেল জমি থেকে হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় কয়েকদিন আগেই কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে শিয়ালদহ, হাওড়া, দমদম-সহ বিভিন্ন রেল স্টেশন এলাকায় দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে রেল কর্তৃপক্ষ, আরপিএফ এবং রেল পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছিল। এরই মধ্যেই যাদবপুরে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ ও হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা বা আলোচনার সুযোগ না দিয়েই উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন।হকারদের পক্ষে আইনজীবী শামিম আহমেদ জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য মামলাটি গ্রহণ করে হকার উচ্ছেদের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পাশাপাশি, হাওড়া, কোন্নগর, ডানকুনি-সহ বিভিন্ন এলাকায় রেল জমি থেকে হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত যে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে, সেগুলির ১৭ জুন যৌথ শুনানির নির্দেশও দেয় আদালত।

সেই শুনানির পরিপ্রেক্ষিতেই উচ্চেদ অভিযান বন্ধ থাকবে বলে আদালত স্পষ্ট করেছে।