Header AD
Trending

ফের তৃণমূলে বড় ধাক্কা! সব পদ ছাড়লেন জ্যোতিপ্রিয়, শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা গৌতমের

balu

ফের তৃণমূলে বড় ধাক্কা! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত বালু ওরফে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick) এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে একই দিনে শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেত্রীর আরেক বিশ্বস্ত সৈনিক গৌতম দেব।

জ্যোতিপ্রিয় নিজেই জানান, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা ৩৫০-রও বেশি, পাশাপাশি কিডনির সমস্যাও বেড়েছে। এই শারীরিক অবস্থায় দলের দায়িত্ব সামলানো সম্ভব হচ্ছে না বলেই তিনি সব পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে চিঠি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত শনিবারই তৃণমূলের কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল জ্যোতিপ্রিয়কে। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই দলের প্রথম দিকের অন্যতম সৈনিকের এই পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, একই দিনে দলের আরেক বিশ্বস্ত সৈনিক গৌতম দেব (Gautam Deb) শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর ইস্তফা নিয়ে জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার মেয়র পারিষদদের সঙ্গে বৈঠকে গৌতম দেব পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলে অনেকেই তাঁকে সিদ্ধান্ত বদলাতে অনুরোধ করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি।

তৃণমূল সূত্রের খবর, দল চাইছে গৌতম দেব এবার সংগঠনের কাজে আরও বেশি সময় দিন। তাঁর পদত্যাগের ফলে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ড কার্যত ভেঙে গেল। যদিও বোর্ডের মেয়াদ এখনও প্রায় এক বছর বাকি ছিল।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় পাননি গৌতম দেব। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)-এর কাছে পরাজিত হন তিনি। এর আগে ২০২২ সালের শিলিগুড়ি পুরনিগম নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি একাধিকবার বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রেশন দুর্নীতির মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল এবং সেই মামলায় তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল। তবুও দলের আস্থা হারাননি তিনি। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া কেন্দ্র থেকে লড়ে বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের কাছে পরাজিত হন।

একদিনে দুই প্রবীণ নেতার পদত্যাগ তৃণমূলের সংগঠন এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।