শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে ফেরার পথে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঘিরে দমদম বিমানবন্দরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বিমানবন্দর চত্বর। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে এবার সরব হলেন তিনি নিজেই। ঘটনার নেপথ্যে বিজেপি নেতৃত্বের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পরিকল্পিত হামলা বা ভয় দেখিয়ে তাঁর কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন অভিষেক। সেই ভিডিওতে হলুদ পোশাক পরা এক যুবকের ছবি তুলে ধরে দাবি করা হয়, তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। অভিষেকের সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তির নাম উত্তম দাস এবং তিনি দমদম এলাকার এক বিজেপি নেতা। আরও দাবি, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে শুভেচ্ছা জানাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জেও ওই ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, এই ঘটনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতি যখন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পর্যবসিত হয়, তখন গণতন্ত্র মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।’ পোস্টে তিনি দাবি করেছেন,
রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিজেপি এতটাই ভয় পেয়েছে যে, তারা এখন আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সশস্ত্র হামলাকারীদের লেলিয়ে দিচ্ছে। গতকাল, কলকাতা বিমানবন্দরের যে পথে আমার পৌঁছানোর কথা ছিল, ঠিক সেখানেই এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে মোতায়েন করা হয়েছিল।
আজকের বাংলার এটাই এক নির্মম বাস্তবতা—এমন এক রাজ্য যেখানে সুশাসনের জায়গা নিয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় অবাধে চালানো হচ্ছে সহিংসতা।
এটি কেবল কোনও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা ছিল না; বরং এটি গণতন্ত্র এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম বিপর্যয়ের এক ভয়াবহ নিদর্শন।’
পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনও ষড়যন্ত্র বা হামলার মাধ্যমে তাঁকে চুপ করানো সম্ভব নয়।তিনি লিখেছেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানিয়ে রাখি—কোনও ধরনের হুমকি, ভীতি প্রদর্শন বা পরিকল্পিত হামলা কখনোই আমার মনোবল ভাঙতে কিংবা আমার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে পারবে না।আমি ক্ষমতার সামনে সত্য তুলে ধরা এবং বাংলার জনগণ ও আমাদের দেশের জন্য নিরলসভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল অভিষেকের। তাঁর আসার আগেই দমদম বিমানবন্দরে জড়ো হন বিজেপি সমর্থকদের একাংশ, যাঁদের হাতে ডিম ছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি দেখে পাল্টা সেখানে উপস্থিত হন তৃণমূল সমর্থকরাও।
প্রথমে বচসা শুরু হলেও দ্রুত তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি ও মারামারির জেরে বিমানবন্দর চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং উভয় পক্ষের সমর্থকদের সরিয়ে দেয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ (Netaji Subhas Chandra Bose International Airport Police Station)।ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর। ঘটনার তদন্ত চলছে।





