Header AD
Trending

প্রথম বাজেট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু! ‘বিরোধীদের সমালোচনার সুযোগ নেই’ দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

suvendu nabanna

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর তা নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, এই বাজেটে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়েনি, যার ভিত্তিতে বিরোধীরা সমালোচনা করতে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, এটিকে প্রকৃত অর্থে পূর্ণাঙ্গ বাজেট বলা যায় না। কারণ এই বাজেট আগামী অগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত আট মাসের জন্য প্রণীত।

তাঁর বক্তব্য, যদি কোনও বিষয় এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত না-ও হয়ে থাকে, তাহলে আগামী পূর্ণ মেয়াদের বাজেটে তা বিবেচনা করা হবে।বাজেট পেশের পর অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণকে পাশে নিয়ে শুভেন্দু বলেন, বিরোধী শিবিরের প্রবীণ বিধায়ক অশোক দেবও তাঁকে জানিয়েছেন যে বাজেট নিয়ে সমালোচনার বিশেষ সুযোগ নেই। তবে আইনজীবীদের জন্য কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর দাবি, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য পাঁচটি ক্ষেত্র— শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প এবং পরিষেবা খাতের উন্নয়ন। পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরব পুনরুদ্ধারের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নাগরিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলাকেও বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হবে। চাঁদাবাজি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় স্তরের অনুমোদনের ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

পাশাপাশি শিল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠনের কথাও জানান।কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে, যার জন্য ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আলু ও ধানচাষিদের জন্যও বিশেষ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

যুব সমাজের জন্যও একাধিক ঘোষণা রয়েছে বাজেটে। আগামী অক্টোবর থেকে স্নাতক যুবকদের মাসে ৩,০০০ টাকা এবং স্নাতক নন এমন যুবকদের মাসে ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে যেসব পরিবারের মাসিক আয় এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি, তারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। আশা ও আইসিডিএস কর্মীদের সম্মানী বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তাঁদের দাবি পূরণে উদ্যোগী হয়েছে। প্যারা-টিচারদের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের আদর্শ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দর্শন অনুসরণ করেই বাংলা এগোবে। শিক্ষা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং ইস্কনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে সহযোগিতা করার কথাও জানান তিনি। ইস্কনকে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন।

তবে বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বাজেটে ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ থাকলেও আয়ের উৎস সম্পর্কে পর্যাপ্ত স্পষ্টতা নেই। তাঁর দাবি, এই বাজেট অনেকাংশেই কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, বাজেট নথিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উল্লেখ এত বেশি যে অনেক সময় এটি রাজ্য বাজেট না কেন্দ্রীয় বাজেটের সম্প্রসারিত সংস্করণ, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল।তবে সমালোচনার পাশাপাশি কুণাল জানান, নতুন সরকারকে কাজের সুযোগ দিতে চায় বিরোধী দল। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের চালু করা বিভিন্ন সামাজিক ভাতা প্রকল্প বর্তমান বাজেটেও বহাল রাখা হয়েছে।