তোলাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এবার তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ইন্দ্রাণীর ডিএল ব্লকের বাসভবনে গিয়ে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও রয়েছে।
সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। তদন্তে জানা গিয়েছে, সব্যসাচী ও তাঁর স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাট এবং ব্যাংক লকার থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই বিপুল সম্পদের উৎস সম্বন্ধে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সব্যসাচী। সেই কারণেই সম্পত্তি ও আর্থিক বিনিয়োগের উৎস সম্বন্ধে তথ্য জানতে ইন্দ্রাণী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ।
নোটিশ অনুযায়ী বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে থানায় উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল ইন্দ্রাণীর। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি পুলিশের ডাকে সাড়া দেননি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সব্যসাচী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।এদিকে, ইন্দ্রাণীর ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল গাড়িরও সন্ধান মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। ফলে তিনি যদি ধারাবাহিকভাবে তলব এড়িয়ে যান, তাহলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২০৮ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ।তদন্তকারীদের ধারণা, ইন্দ্রাণী দত্তের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সব্যসাচী দত্তের সম্ভাব্য অঘোষিত সম্পত্তি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেত্রী তথা নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার পৈতৃক বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে থেকে প্রায় তিন কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, বাজেয়াপ্ত হওয়া ওই গয়নাগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। সেই সোনার উৎস ও মালিকানা নিয়েও তদন্ত চলছে।





