জরুরি ভিত্তিতে নয় শুনানি! চোখের চিকিৎসায় অভিষেকের বিদেশ যাত্রায় না হাইকোর্টের
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার দ্রুত শুনানির অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর এই আবেদন নিয়ে এখনই কোনও স্বস্তি মেলেনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে এই বিষয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও, আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর চোখের নীচে আঘাত লাগে। সেই সময় থেকেই নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁকে একাধিকবার বিদেশে যেতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায়, বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে আদালতের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। সূত্রের খবর, চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি সাত দিনের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন।বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি উঠলে, অভিষেকের আইনজীবীরা দ্রুত শুনানির অনুরোধ করেন। কিন্তু আদালত সেই আর্জি মঞ্জুর করেনি। বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে এই বিষয়টি নিয়ে জরুরিভিত্তিতে কোনও শুনানি করা সম্ভব নয়। মামলাটি স্বাভাবিক নিয়মে জুলাই মাসের মাসিক তালিকাভুক্ত হয়ে শুনানির জন্য আসবে। বিচারপতি ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবশ্যিকতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভারতেই উন্নতমানের চিকিৎসার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।উল্লেখ্য, গত ২১ মে একটি এফআইআর সংক্রান্ত মামলায় অভিষেককে জুলাই মাস পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না।তাৎক্ষণিক অনুমতি না মেলায় অভিষেকের বিদেশযাত্রা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই বিষয়ে বিদেশযাত্রার জন্য তাঁকে আগামী সোমবার আদালতে পুনরায় নতুন করে আবেদন জানাতে হবে। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়া নিয়ে বড়সড় আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হল তৃণমূল সাংসদকে। এখন জুলাই মাসে মামলার শুনানি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে সকলের।





