Header AD
Trending

শেষ মুহূর্তের গোলে প্রি-কোয়ার্টারে ব্রাজ়িল, লড়াকু জাপানের বিদায়

শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোল। আর সেই গোলেই নাটকীয়ভাবে ২-১ ব্যবধানে জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ব্রাজ়িল।

জয় এল ঠিকই, কিন্তু এই ম্যাচে ব্রাজ়িলের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য বেশ কিছু প্রশ্নও তুলে দিল। অন্যদিকে, হারলেও দুরন্ত ফুটবল খেলে আবারও সমর্থকদের মন জয় করল জাপান।

ম্যাচের শুরু থেকেই জাপান ব্রাজ়িলকে চাপে রাখে। দ্রুতগতির আক্রমণ, নিখুঁত পাসিং এবং নির্ভীক ফুটবল খেলেই তারা প্রথমার্ধে এগিয়ে যায়। মাঝমাঠ থেকে প্রায় ৪০ গজ বল টেনে এনে কাইশু সানোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় এশিয়ার দল। ব্রাজ়িলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি।

বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের ছবি। বলের দখল নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে ব্রাজ়িল। ৫৩ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের ক্রস থেকে কাসেমিরোর হেড প্রথমে গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন জাপানের এক ডিফেন্ডার। তবে কিছুক্ষণ পর একই ধরনের আক্রমণ থেকে হেডে সমতা ফেরান কাসেমিরো।সমতা ফেরানোর পরও ব্রাজ়িলের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় গোলের সুযোগ কাজে লাগানো।

জাপানের রক্ষণ বারবার তাদের আটকে দেয়। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে দানিলোর পাস থেকে এনদ্রিক, তারপর ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত থ্রু ধরে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ঠান্ডা মাথায় জালে বল জড়িয়ে ব্রাজ়িলকে জয় এনে দেন।

তবে এই জয় ব্রাজ়িলের সব দুর্বলতা ঢাকতে পারেনি। পুরো ম্যাচেই আক্রমণে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। কোচ কার্লো আনচেলোত্তির দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রায়ানকে প্রথম একাদশে রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি বলেই মনে করছেন অনেকে। এনদ্রিক, মার্তিনেল্লি বা লুই এনরিকের মতো আক্রমণভাগের ফুটবলারদের শুরু থেকেই খেলানো হলে ব্রাজ়িল আরও কার্যকর হতে পারত।

এ দিন জাপানের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে আটকে রাখা। বল পেলেই দু’তিন জন ফুটবলার তাঁকে ঘিরে ফেলছিলেন। ফলে ড্রিবল করে ভিতরে ঢোকা বা শট নেওয়ার সুযোগই পাচ্ছিলেন না তিনি। প্রতিপক্ষের এই কৌশল ভবিষ্যতে অন্য দলগুলিও ব্যবহার করতে পারে। তাই শুধু ভিনিসিয়াসের উপর নির্ভর না করে বিকল্প গোলদাতাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে।মাঝমাঠেও ব্রাজ়িল প্রত্যাশিত ছন্দ খুঁজে পায়নি। কাসেমিরো গোল করলেও আগের মতো প্রভাব ফেলতে পারেননি। লুকাস পাকুয়েতার চোটের কারণে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ব্রুনো গিমারায়েসকে একাই অনেকটা দায়িত্ব সামলাতে হয়। ফাবিনহোকে আরও আগে নামানো উচিত ছিল বলেও মত ফুটবল বিশ্লেষকদের।

অন্যদিকে, জাপান আবারও প্রমাণ করল কেন তারা এশিয়ার অন্যতম সেরা দল। গতি, সংগঠিত ফুটবল এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা দিয়ে তারা দীর্ঘ সময় ব্রাজ়িলকে সমস্যায় ফেলেছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে যাওয়াই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপদ ডেকে আনে। আক্রমণের ধার বজায় রাখতে পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত।

ব্রাজ়িল শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে পরের পর্বে উঠলেও, এই ম্যাচ স্পষ্ট করে দিল—বিশ্বকাপ জিততে হলে আনচেলোত্তির দলকে এখনও নিজেদের খেলায় অনেক উন্নতি করতে হবে। আর জাপান হারলেও তাদের লড়াই ভবিষ্যতের জন্য বড় আশা জাগিয়ে রাখল।