Header AD
Trending

টাইব্রেকারের ট্র্যাজেডিতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় জার্মানির, প্যারাগুয়ের নায়ক গোলকিপার গিল

germany

ভালো ফুটবল খেলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল খাওয়ার পুরনো সমস্যাই আবার ভুগিয়ে দিল জার্মানিকে। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জোসুয়া কিমিচদের স্বপ্নভঙ্গের রাতে প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল, যিনি টাইব্রেকারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট রুখে দেন।টাইব্রেকারের শুরুতেই কাই হাভার্ৎজের শট আটকে জার্মানিকে চাপে ফেলে দেন গিল। পরে নিক ওল্টেমেডের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন তিনি। যদিও প্যারাগুয়ের হয়ে অ্যান্তোনিয়ো সানাব্রিয়া একটি শট বাইরে মারায় ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। নাদিম আমিরি গোল করে জার্মানিকে আশা দেখান। এরপর ম্যানুয়েল নয়ার ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট ঠেকিয়ে সমীকরণ বদলে দেন। প্রথম পাঁচটি শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। কিন্তু ষষ্ঠ শটে জোনাথন তাহ বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিলে জার্মানি আবার চাপে পড়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে হোসে ক্যানালে গোল করতেই শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল জার্মানি। ফেলিক্স এনমেচা, কাই হাভার্ৎজ ও ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজরা ছোট ছোট পাসে এবং দুই প্রান্ত ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা চালান। তবে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা নিজেদের বক্সে অসাধারণ শৃঙ্খলা বজায় রাখায় জার্মানরা পরিষ্কার সুযোগ খুব কমই তৈরি করতে পেরেছিল। প্রথম আধঘণ্টায় জার্মানি মাত্র দুটি শট নেয়, যার একটিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।অন্যদিকে, রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে জার্মান রক্ষণকে চাপে ফেলছিল প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে সেই কৌশলই সাফল্য এনে দেয়। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মাতিয়াস গালারজার ভাসিয়ে দেওয়া বলে হুলিয়ো এনসিসো দুর্দান্ত হেডে গোল করে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। সেই গোলে নয়ারও অসহায় ছিলেন।বিরতির পর সমতা ফেরাতে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। ৪৯ মিনিটে প্যারাগুয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বাঁচান নয়ার। এরপর ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান কাই হাভার্ৎজ।এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল আর হয়নি। ৬৯ মিনিটে প্যারাগুয়ের গুস্তাভো গোমেজের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৭৭ মিনিটে আবারও উইর্ৎজের পাস থেকে হাভার্ৎজ গোলের সুযোগ পেলেও অসাধারণ সেভ করেন অরল্যান্ডো গিল। নির্ধারিত সময়ে আর কোনও দলই ব্যবধান গড়তে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।অতিরিক্ত সময়েও জার্মানির আক্রমণের ধার বজায় ছিল। ১০২ মিনিটে কর্নার থেকে জোনাথন তাহ হেডে বল জালে জড়ালেও ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে গোল বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, হেড নেওয়ার আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিলকে ফাউল করা হয়েছিল। এরপরও একাধিকবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেও গিলের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের সামনে ব্যর্থ হয় জার্মানি।১২০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ১-১ থাকায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানেই শেষ হাসি হাসে প্যারাগুয়ে। অরল্যান্ডো গিলের অসাধারণ পারফরম্যান্সে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।