মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের হেনস্তার ঘটনায় তদন্তে আরও অগ্রগতি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। মঙ্গলবার কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতে মোথাবাড়ি সংক্রান্ত আরও দুটি মামলার চার্জশিট জমা দিয়েছে সংস্থা। এই দুই মামলায় মোট ২৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি মামলায় ২২ জন এবং অন্য মামলায় একজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। প্রথম মামলার চার্জশিট ৫৪ পাতার, আর দ্বিতীয়টি ১১ পাতার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীর উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি, বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং হেনস্তার মতো গুরুতর অপরাধ।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই মোথাবাড়ি কাণ্ডের আরও চারটি মামলায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিল এনআইএ। ওই চার মামলায় যথাক্রমে ৩, ১৫, ১০ এবং ৩ জনের নাম ছিল। সেই তালিকায় মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম ও একরামুল বাদনানির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মঙ্গলবার দাখিল হওয়া নতুন চার্জশিটের একটিতে রিঙ্কু আড়ির নাম রয়েছে।মোথাবাড়ি ঘটনাকে ঘিরে মোট ১২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৬টি মামলায় চার্জশিট পেশ করল এনআইএ। বাকি মামলাগুলির তদন্ত এখনও চলছে।
উল্লেখ্য, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) চলাকালীন মালদহের কালিয়াচকের মোথাবাড়ি বিডিও অফিসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, প্রয়োজনীয় নথি থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সেই অভিযোগে বিক্ষোভকারীরা এসআইআর-এর দায়িত্বে থাকা বিচারকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিডিও অফিসে আটকে রাখেন। পাশাপাশি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের গাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। মহিলা বিচারক-সহ একাধিক বিচারককে হেনস্তার অভিযোগের জেরে তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ।





